খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
চুয়াডাঙ্গার ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন মোড় নিয়েছে ঘটনাটি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ঘটনাকে ঘিরে এর আগে প্রধান শিক্ষকের করা মামলায় শিক্ষার্থীর বাবা-মাকেও আসামি করা হয়েছিল। ফলে একটি বিদ্যালয়ের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন দুই পক্ষের পৃথক আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
আদালতে দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ের অ্যাসেম্বলি চলাকালে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ বোধ করায় ওই শিশু শিক্ষার্থী দুই হাতে কান চেপে দাঁড়িয়ে ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীকে লাইনের বাইরে টেনে এনে দুই গালে চড় মারেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে শিশুটির বাবা-মা ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরিবারের দাবি, শিশুটি অযৌক্তিকভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং এ ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার জন্য তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
ঘটনার পর শিশুর নানা আব্দুর রশীদ বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ আমলী আদালতে প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রথমে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও মামলা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে বিচার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীর বাবা শামস উর রহমান শুভকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গুম করে রাখা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে একই ঘটনার জেরে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমও শিক্ষার্থীর বাবা-মার বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, অফিসকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীর বাবা শামস উর রহমান শুভ তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেন এবং শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে। ওই মামলায় শিশুর বাবা-মাকে আসামি করা হয়।
মামলার পর পুলিশ শিক্ষার্থীর মা মিতালীকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। তবে প্রধান শিক্ষকের মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামস উর রহমান শুভকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন—এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একদিকে বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীর প্রতি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে একজন প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনাও সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে সঠিক দাবি করছে। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টি এখন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য