খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ১২:৯ পিএম
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি আপাতত আলোচনার বাইরে রেখে ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ছয়জন প্রতিনিধি। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তারা শিক্ষাভবনের সামনে থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষাভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়। পরে আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রতিনিধিদলের ছয় সদস্যকে সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
এর মধ্য দিয়ে আন্দোলন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করে। শুরুতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করলেও সচিবালয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধিদলের দাবিপত্রে পদত্যাগের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরং পরীক্ষা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয়টি নির্দিষ্ট দাবি সামনে আনা হয়। তবে সচিবালয়ের বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তখনও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। ফলে আন্দোলনের মাঠপর্যায়ের অবস্থান এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদলের কৌশলের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রতিনিধিদলের প্রথম দাবি হলো, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী পুনরায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্য সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের যুক্তি, বৈরী পরিবেশে অনেক পরীক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারেননি। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় দাবিতে বলা হয়েছে, একই বিষয়ের পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পূর্বের পরীক্ষা ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেটিকেই চূড়ান্ত নম্বর হিসেবে গণ্য করতে হবে। এতে পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে তারা মনে করেন।
তৃতীয় দাবিতে প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রশ্ন প্রণয়নের ত্রুটির দায় কোনোভাবেই পরীক্ষার্থীদের ওপর বর্তানো উচিত নয়।
চতুর্থ দাবিতে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় ফিরতে প্রয়োজনীয় সময় দিয়ে তারপর পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করা উচিত।
পঞ্চম দাবিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বঘোষণা ছাড়াই প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ফলে অনেক পরীক্ষার্থী অপ্রস্তুত অবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ বাস্তবতা মূল্যায়নের সময় বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ষষ্ঠ ও শেষ দাবিতে পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের অতিরিক্ত কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এমন আচরণ পরীক্ষার হলে অযথা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং পরীক্ষার্থীদের মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শিক্ষার্থীদের এই ছয় দফা মূলত পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশকে শিক্ষার্থীবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। সচিবালয়ে প্রতিনিধিদলের প্রবেশের মাধ্যমে দাবি-দাওয়াগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ তৈরি হলেও আলোচনার ফলাফল কী হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এদিকে সচিবালয়ের বাইরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। ফলে আলোচনার পাশাপাশি আন্দোলনের কর্মসূচিও সমান্তরালভাবে চলতে থাকে।
মন্তব্য