খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ১২:২ পিএম
কক্সবাজারের রামুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুয়া লোগো ও স্টিকার ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচারের সময় তিন মাদককারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে পাচারকাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটির ড্যাশবোর্ডের ভেতর থেকে অত্যন্ত নিখুঁত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক পরিবহনের দায়ে গাড়িটিও জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের রাবার বাগান এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শালুকিয়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৬), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাউ এলাকার মৃত শহীদুল ইসলাম সবুজের মেয়ে সীমা ইসলাম (২২) এবং ঢাকার দারুসসালাম থানার দক্ষিণ বিশিল এলাকার শাকিল মৃধার স্ত্রী ঊর্মি আক্তার ঊষা (১৮)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সোমেন মণ্ডল অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাদের কাছে আগে থেকেই একটি গোপন তথ্য ছিল যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কক্সবাজার শহর থেকে বড় একটি ইয়াবার চালান নিয়ে প্রাইভেটকারে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এই খবরের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল রামুর রাবার বাগান এলাকায় মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয় এবং চট্টগ্রামমুখী সন্দেহভাজন যানবাহনের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করে।
নজরদারির একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লোগো ও স্টিকার সাঁটানো একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দেয় টহল দল। কিন্তু চালক গাড়ি না থামিয়ে গতি বাড়িয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ডিএনসির সদস্যরা ধাওয়া করে গাড়িটির গতিপথ রোধ করেন এবং তিন আরোহীকে অবরুদ্ধ করেন।
সোমেন মণ্ডল আরও জানান, গাড়িটি থামানোর পর আরোহীরা প্রথমে নিজেদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তবে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তারা পরিচয় যাচাই করতে শুরু করেন এবং তাদের দাবির কোনো সত্যতা খুঁজে পাননি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে আরোহীরা গাড়িতে মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর তল্লাশি চালিয়ে গাড়িটির সামনের ড্যাশবোর্ড থেকে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এবং মহাসড়কের বিভিন্ন তল্লাশি চৌকি সহজে পার হতেই চক্রটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুয়া পরিচয় ও স্টিকার ব্যবহার করে আসছিল। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য লাখ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ইয়াবাসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় একটি মামলা করা হয়েছে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক চোরাচালানের এই চক্রটির পেছনে আর কারা জড়িত, তা বের করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মন্তব্য