খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পরপরই রাজধানী প্যারিস ও লিওঁসহ দেশের বেশ কয়েকটি বড় শহরে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ফরাসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১৬০ জনেরও বেশি উগ্র সমর্থককে আটক করেছে।
ফ্রান্সের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরপরই রাস্তায় নেমে আসেন শত শত হতাশ ও ক্ষুব্ধ সমর্থক। এর মধ্যে শুধু রাজধানী প্যারিস থেকেই পুলিশ ১৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে। প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে বিপজ্জনক আতশবাজির মর্টার ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের আরেকটি বড় শহর লিওঁতেও একই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শহরের প্লাস বেলকুর চত্বরে বিশাল বড় পর্দায় ম্যাচটি উপভোগ করতে জড়ো হয়েছিলেন শত শত ফুটবল অনুরাগী। খেলা শেষ হওয়ার পরও তারা মাঠ ছাড়েননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে থাকা কয়েকটি ছোট উগ্র দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বোতল, পাথর এবং জ্বলন্ত আতশবাজি নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
লিওঁর এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাধারণ পুলিশ ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত বিশেষ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট ‘সিআরএস ৮৩’-এর সহায়তা নেওয়া হয়। বিশেষ এই বাহিনীর যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। সেখান থেকে অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য থেকে জানা গেছে, লিওঁতে আটক হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই চরম উগ্রপন্থী তরুণ, যাদের জন্ম ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে।
খেলায় হারার পর এমন সহিংসতা ফ্রান্সে নতুন নয়, তবে এবারের ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘর্ষের তীব্রতা থাকলেও কোনো সাধারণ নাগরিক বা পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হননি। একই সঙ্গে শহরের সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।