দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে মোট এক হাজার ১৩ শিশু। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, নতুন রোগীর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অর্থাৎ সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাটি উপসর্গভিত্তিক হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে এবং নিশ্চিত সংক্রমণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৮৫ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৫ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম এবং হামের উপসর্গ সংশ্লিষ্ট কারণে মোট ৭৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য উদ্বেগের একটি বড় বিষয়।
নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও কম নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৪০ শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৮৭৩ জন। ফলে গত এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গজনিত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯৮ হাজার ৬০০ জন হাম রোগী। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৯৫ হাজার ৩১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। এতে বোঝা যায়, অধিকাংশ রোগী যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং নতুন সংক্রমণও অব্যাহত রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি বা যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অপুষ্টিজনিত জটিলতা কিংবা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে আসছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোগীকে আলাদা রাখা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, হাসপাতালে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা রোগীর সংখ্যা আশাব্যঞ্জক হলেও প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমিয়ে আনার প্রধান উপায়।