রাজধানীর ডেমরায় পুলিশ লাইনের একটি কক্ষে পুলিশের এক তরুণ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত কনস্টেবল মো. সাইদুল ইসলামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে বিষণ্নতার বিষয়টি সামনে এলেও এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত মো. সাইদুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাদেকের ছেলে। মাত্র নয় মাস আগে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগ দিয়েছিলেন। চাকরিজীবনের শুরুতেই এমন মৃত্যুর ঘটনায় তার সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরা পুলিশ লাইনের একটি ভবনের নিজ কক্ষে সাইদুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান সহকর্মীরা। তার শরীর বিছানার চাদর দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ডেমরা থানায় এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তার সহকর্মী, পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুর রহমান মির্জা জানান, প্রাথমিক তদন্তে কনস্টেবল সাইদুল ইসলামের মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মৃত্যুর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ ছিল কিনা, কিংবা কেউ তাকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতি করেছে কিনা—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাইদুল ইসলাম কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তিনি অনেক সময় চুপচাপ থাকতেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গেও আগের মতো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেন না। তবে তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল কিনা, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের চাচা মো. সোহাগ বলেন, সাইদুল বেশ কিছুদিন ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তার এমন পরিণতি হলো, তা পরিবারের কাছেও পরিষ্কার নয়। তারা ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. সেলিম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য সাইদুল ইসলামের মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নয় মাস আগে পুলিশে যোগ দেওয়া এই তরুণ সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ পাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।