খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হয়ে এক চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী এই মহারণে স্প্যানিশদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে আলবিসেলেস্তেরা ছিল পুরোপুরি নিষ্প্রভ, ক্লান্ত ও দিশেহারা। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা পুরো ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটিও শট নিতে পারেনি। ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে ফাইনালের মঞ্চে কোনো পরাশক্তির এমন আক্রমণহীন ও শটহীন থাকার ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন।
আর্জেন্টিনার এই গোল খরা এবং আক্রমণের চেনা ছন্দ হারানোর ব্যর্থতা কেবল নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে সেখানেও দলটির একই বিবর্ণ দৃশ্যপট দেখা যায়। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিট, অর্থাৎ ম্যাচের ১০৫ মিনিট পর্যন্তও স্পেনের গোল অভিমুখে কোনো শট নিতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা ১০৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিপক্ষের পোস্টে কোনো শট নিতে ব্যর্থ হওয়ার এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জাজনক রেকর্ড নিজেদের করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
মাঠের লড়াইয়ে স্পেনের শক্তিশালী হাই-প্রেসিং ফুটবল এবং বল দখলের একচেটিয়া আধিপত্যের সামনে শুরু থেকেই চরম কোণঠাসা ছিল আর্জেন্টিনা। স্প্যানিশদের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের বাধা ভেঙে পেনাল্টি বক্সের আশেপাশেও কার্যকর কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারছিলেন না লিওনেল মেসির সতীর্থরা। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগের সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্পেনের গোলরক্ষককে পুরো ম্যাচেই প্রায় কোনো কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি। ফরাসি বা ব্রাজিলিয়ান রক্ষণভাগের মতো স্পেনের ডিফেন্ডাররাও আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডদের কড়া মার্কিংয়ে আটকে রেখেছিলেন।
খেলার প্রথমার্ধেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের চিত্র ছিল একই রকম মলিন। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একটি শটও মারতে পারেনি। প্রথমার্ধের সেই নেতিবাচক ফুটবল আর খেই হারিয়ে ফেলা রণকৌশল ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও বদলাতে পারেনি স্কালোনির দল। বেঞ্চ থেকে বিকল্প খেলোয়াড় নামিয়েও আক্রমণের ধার বাড়াতে ব্যর্থ হন কোচ। শেষমেশ স্পেনের জমাট রক্ষণ আর গতিময় ফুটবলের কাছে আত্মসমর্পণ করে ইতিহাসের পাতায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের জন্ম দিল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যা ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘকাল স্মরণে থাকবে।