খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই জামায়াতের পক্ষ থেকে একে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি ‘ভুয়া’ ভিডিও বলে দাবি করা হয়। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই অবস্থান বদলে উক্ত নারীকে এমপি সাহেবের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে দলটি।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া কয়েক মিনিটের ফুটেজে একটি কক্ষের ভেতরের পরিবেশে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সাথে দেখা যায়। মুহূর্তেই ভিডিওটির একাধিক ক্লিপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বমহলে এ নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল পরিচালিত ‘ক্রাইম বার্তা’ প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে দাবি করা হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে অপশক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ভুয়া ভিডিওটি তৈরি ও প্রচার করছে।
ঘটনার মূল সত্যতা ও বক্তব্যের জন্য সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও দলের অফিশিয়াল বক্তব্য তুলে ধরেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের প্রধান ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান।
তিনি জানান, ভিডিওটি তাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্যের সাথে কথা বলা হয়েছে। এমপি গাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন যে ভিডিওর নারী তার আইনি ও শরীয়াহ সম্মত দ্বিতীয় স্ত্রী। পরিবারের প্রথম স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতিক্রমেই বেশ কিছুদিন আগে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে গোপন কক্ষের এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ হলো কিংবা কে বা কারা তা জনসমক্ষে ফাঁস করল, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে জামায়াতের স্থানীয় দায়িত্বশীলরা।
ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো সংক্রান্ত প্রাথমিক দাবি এবং পরবর্তীতে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে দলীয় স্বীকৃতির ফলে পুরো ঘটনাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিষয়টি এখন কেবল স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, সামাজিক মাধ্যমজুড়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।