খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষ থেকে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই শিশুর নাম জান্নাতুল ফেরদাউস (১১)। সোমবার (২০ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার কাসেমাবাদ এলাকার ‘মিফতাহুল জান্নাহ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদ্রাসা’ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত জান্নাতুল ফেরদাউস নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার নালুয়া গ্রামের প্রবাসী মো. সান্টুর মেয়ে। জানা গেছে, বাবার প্রবাসে থাকার সুবাদে জান্নাতুল তার মায়ের সঙ্গে গৌরনদীর কাসেমাবাদ গ্রামে নানার বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিল। নানার বাড়ি থেকে কাছে হওয়ায় সে ওই মাদ্রাসার আবাসিক শাখায় থেকে কুরআন হেফজ করছিল।
পুলিশ ও মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে আবাসিকের একটি কক্ষ দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে আটকে রাখা হয়েছিল। এতে জান্নাতুলের সহপাঠী ও অন্য শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয়। তারা বহুবার ডাকডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। একপর্যায়ে সহপাঠীরা জানালার কাচের ভেতর দিয়ে উঁকি দেয়। তারা দেখতে পায় জান্নাতুল ওড়না পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলছে। দৃশ্যটি দেখে অন্য ছাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করে।
শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনে দ্রুত ছুটে আসেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে জড়ো হন। পরবর্তীতে উপস্থিত সবাই মিলে কক্ষের দরজার শক্ত লক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং জান্নাতুলকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামান। ততক্ষণে নিথর হয়ে পড়েছিল ওই ছাত্রীর দেহ। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে প্রাথমিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করলেও চিকিৎসকরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
খবর পেয়ে গভীর রাতে গৌরনদী মডেল থানা-পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) মর্গে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মো. আবু ইউসুফ খন্দকার জানান, ওই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে মোট ১৫ জন ছাত্রী আবাসিকভাবে অবস্থান করে পড়াশোনা চালাচ্ছে। ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন সাধারণ দিনগুলোর মতোই অন্তত দুইজন নারী শিক্ষক তাদের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এত বড় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কীভাবে শিক্ষকদের চোখ এড়িয়ে ঘটল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে কোনো রহস্য বা প্ররোচনা জড়িত রয়েছে—সবদিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে এলে শিশুটির মৃত্যুর মূল রহস্য উন্মোচিত হবে। এ ঘটনায় থানায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।