ময়মনসিংহে হামের প্রকোপ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শিশু এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাম আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারানো শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ময়মনসিংহ সদর এলাকা থেকে মাত্র ১০ মাস বয়সী ওই শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ভর্তি পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি কেবল হামেই আক্রান্ত ছিল না, তার সঙ্গে মারাত্মক নিউমোনিয়ার জটিলতাও ছিল। কয়েক দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে হাসপাতালটির আইসোলেশন ওয়ার্ডে আক্রান্ত শিশুদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২২টি শিশুকে হামের উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠে ১৯টি শিশু নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ডেডিকেটেড আইসোলেশন ওয়ার্ডটিতে ৯৩টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ৩ হাজার ৯৮৩ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে ৩ হাজার ৮১৮ জন শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত না করা এবং সঠিক পুষ্টির অভাব এই রোগ বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে হামের জটিলতা হিসেবে যখন নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তখন শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। শিশুদের মধ্যে জ্বর বা গায়ে ফুসকুড়ির মতো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেলেই দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


