গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার হাজীর মাজার বস্তিতে মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। অভিযানের অংশ হিসেবে বস্তির বিভিন্ন স্থাপনায় থাকা অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থার সদস্যরাও এ যৌথ অভিযানে অংশ নেন।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মাদক কারবার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যবহৃত অবৈধ অবকাঠামো বন্ধ করে দেওয়া। অভিযানে বস্তির বিভিন্ন স্থাপনা ও সংযোগস্থল পরিদর্শন করে আইনবহির্ভূত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ পানির লাইন ও ইন্টারনেট সংযোগও অপসারণ করা হয়। অভিযান চলাকালে পর্যায়ক্রমে আরও অবৈধ সংযোগ শনাক্ত করে বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল।
পুলিশের দাবি, হাজীর মাজার বস্তির কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আনাগোনার স্থান হিসেবে পরিচিত। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কতটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বা এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
অভিযানে ডেসকো, সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি অবৈধ পানির লাইন ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করার উদ্যোগকে অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, কোনো এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সেখানে অবৈধ সুযোগ-সুবিধার নেটওয়ার্কও গড়ে উঠতে পারে। সেই নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধ দমনের পরিবেশ তৈরি করাই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, হাজীর মাজার বস্তিকে কোনোভাবেই মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া হবে না। মাদক কারবার চালিয়ে যেতে যারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করছে, তাদের সেই সুযোগ বন্ধ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইনবহির্ভূত সব ধরনের সংযোগ পর্যায়ক্রমে বিচ্ছিন্ন করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। মাদক ব্যবসা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ানো এবং অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দেওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। গাজীপুর মহানগরে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ দৃঢ়ভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, ডেসকোর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম নাজিমুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাজীর মাজার বস্তিতে অভিযান চলছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান শেষে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের সংখ্যা, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।