খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
ঢাকার সাভারে মাত্র নয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধাওয়া করে অভিযুক্তকে ধরে ফেলে এবং হাতেনাতে পেয়ে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাভার পৌরসভার অন্তর্গত বেদেপাড়া এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. উথান মিয়া ওরফে হরি (৫০)। সে সাভারের পোড়াবাড়ি এলাকার মরহুম কিছক ওরফে ইছক আলীর ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে বেদেপাড়া এলাকার ওই শিশুটিকে নির্জন স্থানে একা পেয়ে সুযোগ নেয় অভিযুক্ত উথান মিয়া। শিশুটি যেন বাধা দিতে না পারে বা চিৎকার না করে, সেজন্য তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সে। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। তবে একপর্যায়ে শিশুটি আত্মরক্ষার চেষ্টা করে ও বিকট শব্দে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার আওয়াজ পেয়ে আশেপাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মানুষজন উথান মিয়াকে হাতেনাতে পেয়ে যান। প্রৌঢ় বয়সের একজন মানুষের হাতে শিশুটির ওপর এমন নির্মম ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা জানতে পেরে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা ঘেরাও করে তাকে বেধড়ক গণপিটুনি দেয়। এতে অভিযুক্ত উথান রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে আহত আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসাসংক্রান্ত প্র প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শারীরিক নির্যাতনের আলামত সংগ্রহের জন্য ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, এই জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাভার মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত এজাহার জমা দেন নির্যাতিত শিশুটির স্বজনেরা। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সাভার মডেল থানা পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
মামলা ও আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, মধ্যরাতে শিশু নির্যাতনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মেডিকেল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রামাণ্য তথ্য সংগ্রহ করে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে, যাতে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা যায়।