খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর নীলফামারীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া এই চাপ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল গড়িয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। গুজবের প্রভাবে অনেক চালক শুধু যানবাহনের ট্যাংক পূর্ণ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং জারিকেন ও বিভিন্ন পাত্রেও অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন।
সরেজমিনে জেলার একাধিক ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস এবং অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গ্রাহক একসঙ্গে জ্বালানি নিতে আসায় অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্টেশনগুলোতে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও কোথাও সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
অনেক গ্রাহক জানান, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি সংকটের খবর দেখেছেন বা পরিচিতজনদের কাছ থেকে এমন তথ্য শুনেছেন। সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় পরে সমস্যায় পড়তে না চেয়ে আগেভাগেই জ্বালানি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। এই আতঙ্ক থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড়ের সৃষ্টি হয়।
সৈয়দপুরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, জ্বালানি সংকটের খবর শুনেই তিনি তেল নিতে এসেছেন। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় কর্মজীবী মানুষের জন্য এটি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ডিমলা উপজেলার মেসার্স আফতাব, মেসার্স আলম ও মেসার্স তিস্তা ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ডিপো থেকে নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহ কমানো বা বন্ধ করার বিষয়ে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি। তাদের মতে, গুজবের কারণে একসঙ্গে অতিরিক্ত গ্রাহক আসায় চাপ বেড়েছে। সবাই প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি কিনলে কৃত্রিম সংকটের কোনো আশঙ্কা থাকবে না।
পরিস্থিতি নিয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসনও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কোথাও জ্বালানি ঘাটতির কোনো তথ্য নেই। তাই গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চলছে। তিনি সবাইকে যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি না কিনে স্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী তেল সংগ্রহের পরামর্শ দেন।
প্রশাসনের মতে, গুজবের কারণে একযোগে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা তৈরি হলে সাময়িকভাবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাই অযাচিত আতঙ্ক না ছড়িয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।