খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
দেশে হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১০ জনে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জন। যদিও সংক্রমণের পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে, তবু পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে আরও ১ হাজার ১৩৭ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৫ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭১৫ জন। সব মিলিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা পৌঁছেছে ৮১০ জনে।
এ সময়ের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯৪ জন। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ১৫০ জন।
চিকিৎসা ব্যবস্থার দিক থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, মোট উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এতে বোঝা যায়, অধিকাংশ রোগী যথাসময়ে চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে গুরুতর জটিলতা এড়াতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংক্রমণের বিস্তারের দিক থেকে ঢাকা বিভাগ এখনো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর বাইরে সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি খুব সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। নির্ধারিত বয়সে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা, জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করানো—এসব পদক্ষেপ প্রাণহানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশব্যাপী হাম প্রতিরোধে গণটিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের নির্ধারিত টিকা সময়মতো সম্পন্ন করতে এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে।
সংক্রমণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসাসেবা, রোগ শনাক্তকরণ এবং টিকাদান কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।