খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে হামজা চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ানোর সংকেত দিচ্ছেন তরুণ উইঙ্গার ফারহান আলী ওয়াহিদ। জাতীয় দলের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে চড়ানোর আগেই ক্লাব ক্যারিয়ারে অনন্য এক সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। ইংলিশ ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফুলহামের মূল দলের হয়ে প্রথমবারের মতো মাঠে নামার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এই তরুণ। নরউইচ সিটির বিপক্ষে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিমূলক এক ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবটির সিনিয়র টিমে তাঁর এই ঐতিহাসিক পথচলা শুরু হয়।
নরউইচ সিটির বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির প্রথমার্ধ শেষে ৪৬ মিনিটের মাথায় ফারহানকে মাঠে নামান ফুলহামের স্প্যানিশ কোচ আলভারো আরবেলোয়া। ক্লাবটি ম্যাচটিতে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হলেও বাঁ প্রান্তের এই তরুণ উইঙ্গার নিজের ক্ষুরধার নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় সরাসরি দেখার সুযোগ না থাকলেও, ফুলহামের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয় যে ম্যাচের এক পর্যায়ে ফারহানের নেওয়া একটি চমৎকার বাঁকানো শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছিল।
২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ফারহানের রগে রগে বইছে বাংলাদেশের রক্ত। তাঁর মা-বাবা দুজনই সিলেটি বংশোদ্ভূত, যদিও তাঁদের জন্মও যুক্তরাজ্যেই। লন্ডনের চেলসি একাডেমিতে ফুটবলের হাতেখড়ি হলেও ২০১৯ সালে ফারহান পাড়ি জমান পশ্চিম লন্ডনের দল ফুলহামে। এরপর কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলার পর ২০২৩ সালে ক্লাবের সঙ্গে স্কলারশিপ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তিনি। ২০২৪ সালের শুরুতে জায়গা করে নেন অনূর্ধ্ব-২১ দলে। গতির সঙ্গে চমত্কার ড্রিবলিং ও যেকোনো রক্ষণভাগকে ভেঙে ভেতরে ঢোকার দক্ষতার কারণে খুব দ্রুতই সবার নজরে চলে আসেন তিনি।
২০২৫ সালে ফুলহামের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তিতে সই করার পর ২০২৫-২৬ মৌসুমে ‘প্রিমিয়ার লিগ টু’-তে অনবদ্য নৈপুণ্য দেখান ফারহান। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে নভেম্বর মাসে জিতে নেন মাসসেরার পুরস্কার এবং পরবর্তীতে পুরো মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও স্থান করে নেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁকে লাল-সবুজ পতাকাতলে নেওয়ার প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ করিম একটি ভিডিও বার্তায় নিশ্চিত করেছিলেন যে ফারহানের এজেন্টের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশের পর তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। বাফুফের লক্ষ্য হলো সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক ম্যাচ উইন্ডোেই এই সম্ভাবনাময় উইঙ্গারকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা। শুধু তাই নয়, তাকে কেন্দ্র করে নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দল গঠনের পরিকল্পনাও করছে বাফুফে, যা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।