খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রথম শ্রেণির সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুল হক (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনাটি কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাদে সাদেকপুর (বুড়িস্থল) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাইফুল হক বাদে সাদেকপুর গ্রামের সমরু মিয়ার ছেলে। তার স্থায়ী ঠিকানা সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন হাছননগর এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, ধর্ষণের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত সাইফুলকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি মোবাইল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
একই সাথে ভুক্তভোগী শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত সাইফুলকেও সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পর তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। শিশুটির শারীরিক ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। তার বাবা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনাটির যথাযথ সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধীকে আটক করেছে। শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে এবং তার ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনগত সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গ্রামের এক নিভৃত কোণে এমন নৃশংস ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার কার্যকরের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সমাজকর্মীরা।