খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
পরিবেশ দূষণ রোধে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের ব্যবহার চিরতরে বন্ধ করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট পরিদর্শন ও পলিথিনবিরোধী এক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বাজারের ফল ও সবজি বিক্রেতা, চাল ব্যবসায়ী, সাধারণ ক্রেতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি বাজারের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং পলিথিনের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, একবার ব্যবহারযোগ্য বা সিঙ্গেল-ইউজ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সরকার ইতোমধ্যে পাতলা পলিথিনের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করেছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে সেই আইনের প্রয়োগ সুনিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার প্রথমেই আইন চাপিয়ে না দিয়ে মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পলিথিন বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করছে। তবে বারবার সচেতন করার পরও যদি পলিথিনের ব্যবহার অব্যাহত থাকে, তবে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপে যেতে বাধ্য হবে।
পলিথিনের পরিবেশগত ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ পলিথিন আমাদের মাটি, নদী-নালা, পানি ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য এক মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। বিশেষ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন নগর এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই যে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তার মূল কারণ নালা-নর্দমায় জমে থাকা প্লাস্টিক ও পলিথিন। এই পরিবেশগত বিপর্যয় রুখতে কেবল সরকারি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ পলিথিন কেনাবেচা, মজুত ও সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। এর বদলে পাট, সুতি কাপড় ও অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য টেকসই ব্যাগ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শুধু সাময়িক সচেতনতা সৃষ্টি নয়, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং পলিথিন উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনানুগ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে বিগত ছয় মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর মোট ১৬৮টি বিশেষ মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ২০৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধীদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং কারখানা ও বাজার থেকে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ক্ষতিকর পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।
সচেতনতামূলক এই কর্মসূচির শেষভাগে প্রতিমন্ত্রী বাজারে আসা ক্রেতা ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ বিতরণ করেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।