খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৪:২ পিএম
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানী কিয়েভ থেকে শুরু করে দেশটির মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এই হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশজুড়ে বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কা প্রকাশের এক দিন পরই এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ, ধ্বংসযজ্ঞ ও হতাহতের খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভি রিহে এবং নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে।
ক্রিভি রিহে রাশিয়ার একটি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এতে দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হন। আহত হন আরও আটজন। হামলার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি পরিষেবার কর্মীরা কাজ করেন।
রাজধানী কিয়েভেও হামলার ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে নিহত হয়েছেন ছয়জন। পলতাভায় একজন নিহত হয়েছেন। পশ্চিমাঞ্চলের শহর লভিভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত লভিভে হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোলিশ বাহিনী যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে রুশ হামলার প্রভাব সীমান্তবর্তী ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে পোলিশ আকাশসীমায় কোনো হামলার ঘটনা ঘটেছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভ থেকে লভিভ পর্যন্ত ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, ওডেসা বন্দরের কাছাকাছি অস্ত্র পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত তিনটি মালবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, রুশ হামলা থেকে সাধারণ মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করতে মিত্রদের কাছ থেকে আরও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়া জরুরি।
এর আগে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করেন জেলেনস্কি। বৈঠকের পর ইউক্রেনকে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মতির কথা জানানো হয়। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে আসছে।
আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে পেট্রিয়ট ব্যবস্থা ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান-সংক্রান্ত সামরিক সংঘাতের পর এই ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে একই দিনে রাশিয়ার পেনজা শহরে একটি ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে। হামলার পর দেশটির শীর্ষ অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রুশ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তবে মস্কো সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। ফলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হামলায় একসঙ্গে ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে হতাহতের ঘটনা দেশটির জন্য পরিস্থিতির নতুন চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় হামলা ও শিশুদের প্রাণহানি যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে।
মন্তব্য