খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩৪ পিএম
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের দোলেশ্বর এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা জমি দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কব্জা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে এখনো আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শুরু হওয়া এই পরিস্থিতি মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিন অনুসন্ধানে ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, দোলেশ্বর এলাকায় এসব অপকর্মের নেপথ্যে রয়েছে চারজনের একটি বলয়। তারা হলেন—যুবদল নেতা সাইমন, যুবদল নেতা তানভীর, বাপ্পি এবং বিএনপি নেতা রুমান।
অভিযোগ রয়েছে, দোলেশ্বর গ্রামের সাইমন মামলা বাণিজ্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমি দখল ও চাঁদাবাজিতে যুক্ত। প্রভাব বিস্তার করতে তিনি কখনো নিজেকে যুবদল নেতা, কখনো বিএনপির শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ, আবার কখনো ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে এলাকায় কর্তৃত্ব দেখান। এমনকি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে দোলেশ্বর পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা তানভীরের বিরুদ্ধে কোন্ডা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে, যা এখনো অব্যাহত। অন্যদিকে, দোলেশ্বর মধ্যপাড়ার রুমান দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর গত ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জমি দখল ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন বলে জানান স্থানীয়রা।
এর আগে কোন্ডা ইউনিয়নে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় খায়রুজ্জামান রাজা মিয়ার মালিকানাধীন একটি মার্কেট জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ ওঠে এই চক্রের বিরুদ্ধে। মার্কেটটিতে নিজেদের দাবি করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয় এবং সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাইনবোর্ডে লেখা ছিল—’শেখ রন্নু মাঝি (রন্নু ব্যাপারী)-এর ওয়ারিশগণের উদ্যোগে দখল বুঝে নেওয়া হয়েছে।’ অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দখল অভিযানের সরাসরি নেতৃত্বে ছিলেন সাইমন, তানভীর, বাপ্পি ও রুমান।
এছাড়া দোলেশ্বর কসাইবাড়ির বাসিন্দা ও স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা দীপুর বিরুদ্ধে জমি দখল, মাদক ব্যবসা এবং বসুন্ধরা এলাকার ময়লা অপসারণের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, এসব ঘটনার এতদিন পার হলেও কোনো সুষ্ঠু তদন্ত বা আইনি প্রতিকার মেলেনি। উল্টো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

মন্তব্য