জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু ফলাফল অর্জন নয়; প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াও। সিরিজ শুরুর আগে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন।
প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগেই সাংবাদিকদের থামিয়ে নাজমুল জানতে চেয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রত্যাশা কী। একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে ‘ভালো খেলা’ উত্তর আসতেই অধিনায়ক মজা করে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আমি এমন কথা বললে পছন্দ হতো?’ এরপর আরেক সাংবাদিক প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের মন্তব্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ‘সম্মান নিয়ে ফিরতে’ চায়। এই উত্তরটিই নাজমুলের পছন্দ হয়।
সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক পরে নিজের প্রত্যাশাও স্পষ্ট করেন। তাঁর মতে, প্রতিটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের ক্রিকেটের মান এবং প্রতিপক্ষকে কতটা চাপে রাখা যায়, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নাজমুল বলেন, বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য থাকবে অস্ট্রেলিয়ায় ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করা। তাঁর প্রত্যাশা, দল যদি প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে এবং অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন সময় দিতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ অধিনায়কের ভাবনায় বিষয়টি কেবল দুই ম্যাচের ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের নিজেদের কন্ডিশনে ভালো পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য এমন সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ।
এই সফরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে। প্রায় ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবার টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলেছিল তারা। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দুই দলের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে এমন সফর হয়নি। ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের একাধিক প্রজন্ম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ ছাড়াই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছে।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারও এই অপেক্ষার একটি বড় উদাহরণ। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এবং শতাধিক টেস্টে অংশ নেওয়া এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও এখনো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। সেই দিক থেকে এবারের সফর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য ব্যক্তিগত ও দলীয়—দুইভাবেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে যাওয়ার আগে প্রত্যাশার চাপও অনুভব করছেন নাজমুল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে উন্নতি এসেছে। নিজেদের মাঠে তো বটেই, বিদেশের মাটিতেও দল বিভিন্ন সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। ফলে এখন বাংলাদেশের সমর্থকেরা শুধু অংশগ্রহণে সন্তুষ্ট নন; তারা জয় প্রত্যাশা করেন।
নাজমুল এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের দর্শকেরা এখন প্রতিটি সিরিজে জয় আশা করেন—এটাই দেশের টেস্ট ক্রিকেটের অগ্রগতির অন্যতম প্রমাণ। অতীতে বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয়ের চিন্তা অনেকের কাছে হয়তো বাস্তবসম্মত মনে হতো না। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, বাংলাদেশ জিততে পারে—সমর্থকদের মধ্যে এমন বিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে সেই বিশ্বাসেরই পরীক্ষা হবে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়। কন্ডিশন, প্রতিপক্ষের অভিজ্ঞতা এবং ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার স্বাভাবিক আধিপত্য—সব মিলিয়ে সিরিজটি কঠিন হওয়ারই কথা। কিন্তু নাজমুলের বক্তব্যে পরিষ্কার, বাংলাদেশ শুধু ফলাফলের অপেক্ষায় বসে থাকতে চায় না। প্রতিটি সেশনে লড়াই করে, প্রতিটি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চায় তারা।
শেষ পর্যন্ত সিরিজে জয়, ড্র কিংবা পরাজয়—যে ফলই আসুক, বাংলাদেশের অধিনায়কের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের ক্রিকেটের মান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচে যদি বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করতে পারে, প্রতিপক্ষকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে এবং সম্মানজনক পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারে, তাহলে সেটিই ভবিষ্যতের জন্য বড় অর্জন হয়ে উঠতে পারে। আর সেই লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই হয়তো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
মন্তব্য