খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। নতুন এই চার মৃত্যুর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম এবং হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২০ জনে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭২৫ জন। অর্থাৎ মোট ৮২০ জনের মৃত্যুর মধ্যে অধিকাংশই উপসর্গভিত্তিক হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, আর নিশ্চিত পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হামের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজন এবং ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে রয়েছেন। এতে বোঝা যায়, দেশের একাধিক বিভাগে এখনো হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত জটিলতার প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।
একই সময়ে দেশে নতুন করে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭০ জন। এর ফলে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৪২ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই তথ্য থেকে স্পষ্ট, সংক্রমণের হার এখনো উদ্বেগের পর্যায়ে রয়েছে এবং নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৯০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হামের সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৩ জনে। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে, নিশ্চিত রোগীর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে আসছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও নিয়মিত সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য প্রতিদিন হালনাগাদ করছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য