খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহানের বিরুদ্ধে এক সন্তানের জননীর করা ধর্ষণ মামলাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার বাদীর অভিযোগ, আদালতে চলমান একটি মামলায় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তবে অভিযুক্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেছেন। এদিকে তদন্তাধীন এই মামলায় এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ফারহান (৩২) বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি আগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় বসবাস করতেন এবং বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার খাঁনপুর বিদ্যুৎ কলোনি এলাকায় থাকেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং দলের পরবর্তী কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে মামলার বাদীর পৈত্রিক বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ভূঁইগড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে চলমান একটি মামলায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের ঢাকেশ্বরী এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মাসে তিন থেকে চারবার বিভিন্ন স্থানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর দাবি, বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পারলে অভিযুক্ত তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু পরবর্তীতে সমঝোতার কথা বলে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল রাজধানীর কদমতলীর মোহাম্মদবাগ এলাকায় এক বন্ধুর ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে অভিযুক্তের আরেক সহযোগীর কাছে তুলে দেওয়া হয় এবং রাতভর যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ১৭ এপ্রিল কদমতলী থানায় দুইজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মেহেদী হাসান ফারহান ও তার সহযোগীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় পার হলেও প্রধান অভিযুক্ত প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। এতে তিনি ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান ফারহান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার দাবি, ওই নারী পূর্বেও ব্যক্তিগত বিরোধে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন এবং বর্তমানে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে একই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দলের আসন্ন কমিটিতে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় নিজ দলের একটি পক্ষ ওই নারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে তার বিরুদ্ধে এই মামলা করিয়েছে।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে। তিনি বলেন, এখনো ভুক্তভোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেনি। এ ছাড়া মামলার দুই আসামির কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় মামলাটি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
মন্তব্য