খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ২:২৪ পিএম
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় কলা চুরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের একপর্যায়ে মোহাম্মদ তোহা ওরফে তোহা মুন্সি (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. আনোয়ার হোসেন (২৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ১২টার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তোহা মুন্সি পটিয়া মুন্সি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই এলাকার মৃত আবুল বশরের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে তোহা মুন্সি নিজের বাড়ির সামনে ছিলেন। এ সময় আনোয়ার হোসেনকে সন্দেহজনকভাবে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে তিনি তার কাছে গাছের কলা চুরির বিষয়ে জানতে চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরে আনোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের সদস্য বাবুল, এহাজার মিয়া ও সাদ্দামসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোটা হাতে তোহা মুন্সির ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তোহা মুন্সিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পটিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মাহবুব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আঘাতের ধরন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
এ ঘটনায় পটিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি সামান্য সন্দেহ ও কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো ব্যক্তি চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অপরাধের বিচার করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের। পুলিশও বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য