খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মানহানিকর পোস্ট’ দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম পলাশ চৌধুরী (৪৮)। তিনি রাজশাহী নগরের মালোপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব-৫-এর রাজশাহী সদর কোম্পানির একটি দল শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে নগরের রাণীবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পলাশ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-৫-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী নুর মোহম্মদ (৩০) প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তিনি গত ১ জুলাই বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পান, কয়েকটি ফেসবুক আইডি, গ্রুপ, পেজ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সহধর্মিণীকে নিয়ে মিথ্যা, অশ্লীল ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।
বাদীর অভিযোগ, এসব বক্তব্য ও পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। একই সঙ্গে তাকে মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, মানহানি করা এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পরদিন, ২ জুলাই, নুর মোহম্মদ রাজধানীর গুলশান থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি তদন্ত শুরু করে গুলশান থানা-পুলিশ।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে মামলাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহীতে অবস্থানরত পলাশ চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৫ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
র্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ চৌধুরী ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
গ্রেফতারের পর পলাশ চৌধুরীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গুলশান থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই কথিত পোস্ট ও বক্তব্য প্রচারের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা, অশ্লীল বা মানহানিকর বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া কনটেন্টের উৎস শনাক্ত করা এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে থাকে। তবে এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
এই মামলাতেও পলাশ চৌধুরীর গ্রেফতারকে তদন্তের ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন তদন্তে ওই পোস্টগুলো কারা তৈরি, কারা প্রচার বা ছড়িয়ে দিয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য