খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৭ পিএম
সাভারে রাতের আঁধারে মশাল মিছিল করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের নয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারের সালেহপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় পুলিশের হাতে একটি ডিজিটাল ব্যানার, পাঁচটি মশাল ও তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম শনিবার দুপুরে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মশাল মিছিলের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাতে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে আওয়ামী লীগের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন নেতাকর্মী মশাল নিয়ে মিছিল করছিলেন। মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ ব্যক্তি দ্রুত সরে পড়েন। তবে ঘটনাস্থল থেকে নয়জনকে আটক করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রাকিব শিকদার (২৩), মহিবুল্লাহ আল সাব্বির (৩১), ইকবাল (৪০), সামিউল ইসলাম (১৯), শফিকুল ইসলাম খান ইদ্রিস (৩০), রিপন (৩০), ইব্রাহিম (৪৫), ওয়ালিউর রহমান শিবলী (৪০) এবং রমজান (৩০)।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় মিছিল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণ হিসেবে পাঁচটি মশাল ও একটি ডিজিটাল ব্যানার জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। তবে এসব মোটরসাইকেল গ্রেফতার ব্যক্তিদের কার—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মশাল মিছিলের উদ্দেশ্য, এতে কারা অংশ নিয়েছিলেন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক রাজধানীর সঙ্গে সাভার, আশুলিয়া ও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এই মহাসড়কের আমিনবাজার অংশটি যানবাহন চলাচলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাতের সময়ে সেখানে কোনো মিছিল বা সমাবেশ হলে জননিরাপত্তা ও যান চলাচলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও পুলিশের নজরে থাকে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, মশাল মিছিল করার সময় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তিন দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আদালতে রিমান্ড আবেদনের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটিও পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য