খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ১১:১২ পিএম
২৭ থেকে ৩১ জুলাই বিমা খাতের মূল নজর ছিল অবসর জীবনযাপন ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং এশীয় আঞ্চলিক বিমা বাজারের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ওপর।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপ ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিমা খাতের মূল চার বিষয় তুলে ধরা হলো:
সিঙ্গাপুরের চিত্র (AIA সার্ভে): ২৩ জুলাই প্রকাশিত ‘এআইএ লঞ্জিভিটি স্টাডি’ (AIA Longevity Study) অনুযায়ী, মাত্র ১৯% সিঙ্গাপুরি তাঁদের ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও সেবা সংক্রান্ত চাহিদাগুলো বুঝতে পেরেছেন এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করেছেন। চিকিৎসা খরচের জন্য ৫২% মানুষ সরকারি স্কিমের ওপর নির্ভর করার আশা রাখেন এবং মাত্র ২৩% বেসরকারি বিমার শরণাপন্ন হওয়ার কথা ভাবেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৫০%-এর বেশি সিঙ্গাপুরি দীর্ঘায়ু লাভকে সুযোগ ভাবার চেয়ে দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে দেখছেন।
অস্ট্রেলিয়ার চিত্র (Finder সার্ভে): ১,০১০ জন অস্ট্রেলিয়ানের ওপর পরিচালিত নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান কখনোই তাঁদের সুপারঅ্যানুয়েশন (অবসর তহবিল/Super Fund) ফান্ডের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে দেখেননি। ১৯% গ্রাহক কখনোই ফান্ড তুলনা বা পর্যালোচনা করেননি, আর ১৬% মানুষ এক বছরেরও বেশি সময় আগে শেষবার এটি পরীক্ষা করেছিলেন। মাত্র ২৬% গত তিন মাসের মধ্যে এবং ২২% গত এক বছরের মধ্যে ফান্ড পর্যবেক্ষণ করেছেন।
বিমা খাতে প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা খরচ কমাচ্ছে, সেবা প্রক্রিয়ার গতি বাড়াচ্ছে এবং শ্রমঘাটতি মেটাতে সহায়তা করছে।
বিমা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় অর্ধেকেরই ধারণা, অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে তাদের ২৫%-এরও বেশি কর্মী চাকরি হারাতে পারেন।
সপ্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালিয়াঞ্জ পার্টনার্স’ (Allianz Partners) তাদের কার্যক্রমে এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি করে অন্তত ১৮০০ কর্মসংস্থান ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
মূল ভূখণ্ড (Mainland China) থেকে আসা বিমা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা (Wealth Management) কোম্পানিগুলোর অফিস নেওয়ার চাহিদা হংকংয়ের রিয়েল এস্টেট খাতকে চাঙা করছে।
প্রপার্টি কনসালটেন্সি ‘JLL’-এর জুন মাসের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে মূলধন ও বিমা ব্যবসায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে হংকংয়ের শিম শা সুই (Tsimshatsui) বাণিজ্যিক এলাকায় ‘গ্রেড এ’ (Grade A) অফিসগুলোর খালি থাকার হার (Vacancy rate) কমে ৬.৭%-এ নেমে এসেছে।
২৮ জুলাই ২০২৬-এ জাপানে সংঘটিত ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিমা খাতের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২০১৬ সালের কুমামোতো (Kumamoto) ভূমিকম্পের চেয়ে অনেকটাই কম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ২০২৪ সালের নাতো (Noto) ভূমিকম্পের কাছাকাছি ক্ষতির স্তরে থাকতে পারে (যদি বড় কোনো আফটারশক না ঘটে)।
পুনর্বিমা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘হাউডেন রি’ (Howden Re) উল্লেখ করেছে, এই ভূকম্পনটির মাত্রা ও গভীরতা ২০১৬ সালের কুমামোতো ভূমিকম্পের মতোই ছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি সম্ভবত হিনাগু/ইয়াতসুশিরো (Hinagu/Yatsushiro) ফল্ট সিস্টেমের কারণে ঘটেছে, যেখানে শত শত বছর ধরে বড় ধরনের কোনো ভূ-ত্বকীয় ফাটল দেখা যায়নি।
মন্তব্য