দ্বিতীয় স্ত্রীকে রেখে প্রথম স্ত্রী নিয়ে বিদেশ, ভাঙল বাড়ি
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১০ পিএম
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় স্ত্রীকে দেশে রেখে প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। রোববার সকালে উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খেজুরতলা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে রফিউদ্দিন প্রথমে একই গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জীবিকার প্রয়োজনে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের সময় তাদের দাম্পত্য জীবনে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়। একপর্যায়ে ছনিয়া খাতুন এক ইতালিপ্রবাসী ব্যক্তির সঙ্গে চলে যান বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।
বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তা স্থানীয়ভাবে এবং থানায় সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে ছনিয়া ওই ব্যক্তির সঙ্গেই থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনার পর রফিউদ্দিন দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর রফিউদ্দিন একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রায় এক বছর তাদের সংসার চলছিল। তবে পরবর্তী সময়ে রফিউদ্দিন আবারও প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেন। একপর্যায়ে তিনি ছনিয়াকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
রফিউদ্দিনের এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুনের পরিবারে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সেই ক্ষোভের জেরেই রোববার সকাল ১০টার দিকে রিমার স্বজনেরা রফিউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয় বলে জানা গেছে। তবে ভাঙচুরের ঘটনায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে শেষ পর্যন্ত বসতবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গড়াল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, দাম্পত্য বা পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের পরিবর্তে আইনি ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।
নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুন অত্যন্ত ভদ্র ও অমায়িক। তার সঙ্গে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি। তবে ক্ষোভ বা অভিমান থেকে কারও বাড়িঘর ভাঙচুর করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় আইন নিজের হাতে না নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাঈল জানান, বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের কথা জানানো হলেও, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন, যাতে ঘটনাটি আরও বড় সংঘাতে রূপ না নেয়।
মন্তব্য