খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১৮ পিএম
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেললাইনের পাশের জঙ্গল থেকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় হৃদয় ইসলাম (২১) নামে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগ চিনি মসজিদ এলাকার রেলওয়ে কারখানার সীমানাপ্রাচীরসংলগ্ন রেললাইনের পাশের একটি জঙ্গল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সকালে হাঁটতে বের হয়ে জঙ্গলের মধ্যে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীর ও পোশাকে রক্তের দাগ ছিল এবং গলায় গুরুতর ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন বাসিন্দা আহত যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হাসপাতালে গিয়ে আহত যুবকের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেয়।
আহত হৃদয় ইসলাম সৈয়দপুর উপজেলার চওড়া বাগিচাপাড়া এলাকার মহুবার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন হোটেলকর্মী এবং সেখানে রুটি তৈরির কাজ করতেন। তার পকেটে থাকা একটি কাগজে লেখা একটি মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালে ছুটে আসেন হৃদয়ের শাশুড়ি মিনা বেগম।
মিনা বেগম জানান, প্রায় দেড় বছর আগে হৃদয়ের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছোট সন্তান রয়েছে। পরিবারের দাবি, গত শুক্রবার হৃদয় তার পরিচিত একই এলাকার মমতাজুল ও জাহাঙ্গীর নামে দুজনের সঙ্গে কাজের উদ্দেশ্যে নাটোরে গিয়েছিলেন। এরপর তিনি কীভাবে সৈয়দপুরে ফিরে এলেন, কোথায় ছিলেন কিংবা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করেছে—এসব বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা এখনো কিছু জানতে পারেননি।
হৃদয়ের শাশুড়ির বক্তব্য অনুযায়ী, নাটোরে যাওয়ার পর তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বা চলাফেরার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি কী পরিস্থিতিতে সৈয়দপুরের রেললাইনের পাশের জঙ্গলে এসে পড়লেন, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৈয়দপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাইয়ুল কবির রাজীব জানান, আহত যুবকের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া তার হাত ও পায়েও একই ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যার চেষ্টা নাকি পরিকল্পিত হামলা—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কে বা কারা হৃদয়কে আহত করেছে, কোথায় তার ওপর হামলা হয়েছে এবং কী কারণে তাকে এভাবে জখম করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম রেজা বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশের তদন্তে আহত যুবকের নাটোরে যাওয়া, সেখান থেকে সৈয়দপুরে ফেরার সম্ভাব্য পথ, তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার আগে ও পরে তার গতিবিধি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
মন্তব্য