খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৪:১৩ পিএম
পাকিস্তান পুরুষ ক্রিকেট দলের নতুন ব্যাটিং কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার মাইকেল স্মিথকে নিয়োগ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ৪৬ বছর বয়সী এই সাবেক ডানহাতি ব্যাটারের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে পিসিবি। তবে খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘ ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ার থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনো দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার।
পিসিবি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্মিথ পাকিস্তান জাতীয় দলের টেস্ট এবং সাদা বলের—দুই ফরম্যাটেই ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ১৯ আগস্ট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগেই তিনি পাকিস্তান দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। ফলে নতুন দায়িত্বে তার প্রথম বড় পরীক্ষা হতে পারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজ।
স্মিথের ক্রিকেট ক্যারিয়ার বিস্তৃত হলেও তা মূলত ঘরোয়া পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পেশাদার ক্রিকেটে সক্রিয় থাকা এই ব্যাটার ৮৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, ৭২টি লিস্ট-এ ম্যাচ এবং ১৬টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। সব ফরম্যাট মিলিয়ে তার সংগ্রহ ৭ হাজার ২৯ রান। এর মধ্যে রয়েছে ৯টি শতক ও ৪০টি অর্ধশতক। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও জাতীয় দলের দরজা তার জন্য কখনো খোলেনি।
খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ না পাওয়া স্মিথ এখন কোচ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট দলের ব্যাটিং ইউনিটের দায়িত্ব পাওয়া তার কোচিং ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কোচিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য স্মিথের অভিজ্ঞতা একেবারে কম নয়। তার রয়েছে লেভেল-৪ কোচিং যোগ্যতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি পাকিস্তান সুপার লিগের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কাজ করেছেন। ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, করাচি কিংস এবং মুলতান সুলতানসের মতো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো, স্থানীয় ব্যাটারদের সক্ষমতা এবং দেশের ক্রিকেট পরিবেশ সম্পর্কে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতাই জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে স্মিথকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। পাকিস্তানের ক্রিকেটে প্রতিভাবান ব্যাটারের অভাব নেই, কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চাপের মুহূর্তে উইকেট ধরে রাখা, ইনিংস বড় করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের ধরন বদলানোর মতো জায়গায় ব্যাটারদের আরও কার্যকর করে তোলাই নতুন কোচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হতে পারে।
বিশেষ করে টেস্ট ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের চাহিদা এক নয়। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার মানসিকতা ও টেকনিক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সাদা বলের ক্রিকেটে দ্রুত রান সংগ্রহ, স্ট্রাইক রোটেশন এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে ঝুঁকির ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি। দুই ধরনের ক্রিকেটেই কাজ করার দায়িত্ব পাওয়ায় স্মিথকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
তার নিয়োগের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—যে ক্রিকেটার কখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি, তিনিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ব্যাটিং শেখানোর দায়িত্ব পেলেন। ক্রিকেটে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। অনেক সফল কোচের খেলোয়াড়ি জীবন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুব উজ্জ্বল ছিল না; কিন্তু কোচিংয়ে তারা নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। স্মিথের ক্ষেত্রেও এখন দেখার বিষয়, ঘরোয়া ক্রিকেট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সাফল্যে কতটা কাজে লাগাতে পারেন।
দুই বছরের চুক্তিতে তার সামনে তাই রয়েছে বড় দায়িত্ব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়েই শুরু হবে নতুন অধ্যায়। এরপর টেস্ট ও সাদা বলের ক্রিকেটে পাকিস্তানের ব্যাটিং ইউনিটকে আরও সংগঠিত, ধারাবাহিক ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর করে তোলাই হবে তার মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলোয়াড় হিসেবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও কোচ হিসেবে এখন সেই ঘাটতি পুষিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মাইকেল স্মিথ। তার কাজের ফল মাঠে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
মন্তব্য