খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২৪ পিএম
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে আগামী ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতা এবং যুবলীগের এক সক্রিয় কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে উপজেলার বরমা ইউনিয়ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশ তাঁদের আটক করে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন ছাত্রলীগ নেতা জামশেদ (২২) ও যুবলীগ কর্মী মেহেদী হাসান শিফাত (২৩)। জামশেদ ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং শিফাত কামাল উদ্দিনের ছেলে। তাঁরা দুজনই চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে চন্দনাইশের বরমা ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনা নিয়ে অবস্থান করছিলেন জামশেদ ও শিফাত। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে। ঘটনার সময় তাঁদের শারীরিক অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ধারণা করেন যে তারা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন।
তবে তাঁদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে কিছুটা বিভ্রান্তি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিসুল ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু প্রতিবেশীদের মুখে শুনেছেন আটক দুজন ইয়াবা সেবন করেছিলেন। কিছু লোক তাঁর এই কথাকে বিকৃত করে তাঁদের কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সত্য নয়।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে একাধিক ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব মিছিলের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিলে জামশেদ ও শিফাত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
ওসি আরও বলেন, ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসকে কেন্দ্র করে এলাকায় যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক বানচাল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না।
পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সোমবার সকালে চন্দনাইশ থানা পুলিশ তাঁদের আদালতের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য