খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম
বাংলাদেশের ফুটবলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী প্রতিভাদের অনুসন্ধান করে জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলের জন্য নির্বাচন করার চলমান মেগা পরিকল্পনায় যোগ হতে যাচ্ছে আরও একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় নাম। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের তারকা হামজা চৌধুরী এবং কানাডিয়ান লিগে আলো ছড়ানো শমিত সোমদের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করানোর দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার সরাসরি দেশের বয়সভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে যুক্ত হতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা মাত্র ১৮ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস। মূলতঃ আসন্ন অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বাছাইপর্বকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী, ভারসাম্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক দল গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তরুণ এই ফুটবলারকে দেশে এনে সরাসরি প্রাথমিক দলে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
গত সোমবার বাফুফে ভবনে আয়োজিত ডেভেলপমেন্ট কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ও সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। তিনি জানান, যাবতীয় প্রক্রিয়া এবং কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই তরুণ অ্যাটাকার অ্যাডাম আব্বাস ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন। দেশে পা রাখার পর পরই তিনি সরাসরি অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেবেন এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের জন্য দলের কোচিং স্টাফদের তত্ত্বাবধানে কড়া অনুশীলনে অংশ নেবেন।
পারিবারিক পটভূমি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, তরুণ প্রতিভাবান উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাসের মায়ের দিক থেকে বংশগত গভীর শিকড় রয়েছে বাংলাদেশে। তাঁর মায়ের জন্ম এবং পৈতৃক ভিটা চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি অদম্য আগ্রহ ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা আব্বাস ইংল্যান্ডের ফুটবলে তাঁর প্রাথমিক পাঠ ও তালিম গ্রহণ করেছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ও ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিশ্বখ্যাত যুব একাডেমিতে। বিশ্বমানের সেই একাডেমি থেকে আধুনিক ফুটবলের গতি, টেকটিক্স ও মৌলিক দক্ষতা অর্জনের পর তিনি পরবর্তীকালে চুক্তিভিত্তিক যোগ দেন ইংলিশ ক্লাব বার্নলির অনূর্ধ্ব-১৮ দলে, যেখানে তিনি বর্তমানে নিয়মিত অনুশীলন করছেন এবং প্রতিযোগিতা মূলক বয়সভিত্তিক ম্যাচগুলোতে নজরকাড়া পারফর্ম করে আসছেন।
ফুটবল বোদ্ধা ও স্কাউটদের মতে, তরুণ এই লেফট ও রাইট উইঙ্গারকে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি অত্যন্ত অনন্য, সময়োপযোগী ও দুষ্প্রাপ্য সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাঠের খেলায় তাঁর বিস্ফোরক গতি, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করার অসাধারণ টেকনিক্যাল ড্রিবলিং ক্ষমতা এবং সুযোগ বুঝে গোল করার সহজাত দক্ষতা তাঁকে সমসাময়িক অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা করে তুলেছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা তাঁকে আধুনিক ফুটবলের একটি ‘কমপ্লিট প্যাকেজ’ বা অলরাউন্ডার হিসেবে অভিহিত করছেন। বাফুফে আশা প্রকাশ করছে যে, অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলে তাঁর মতো আন্তর্জাতিক ফুটবল একাডেমির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন উইঙ্গারের অন্তর্ভূক্তি কেবল দলের আক্রমণভাগকেই শক্তিশালী করবে না, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলের মানে একটি নতুন মাত্রা ও গতি এনে দেবে।
মন্তব্য