খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৯:২২ পিএম
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ভাণ্ডারপুর এলাকায় এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ‘আলফা কিন্ডারগার্টেন’ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপুর (৫০) বিরুদ্ধে তাঁরই প্রতিষ্ঠানের এক কোমলমতি স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক কেবল প্রতিষ্ঠানের প্রধানই নন, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে তিনি আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন এবং কোলা ইউনিয়নের কাজী হিসেবেও কর্মরত আছেন।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে প্রবল বৃষ্টির কারণে স্কুলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপু উক্ত ছাত্রীকে একা পেয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। মেয়েটি কোনোমতে নিজেকে আত্মরক্ষা করে ওই শিক্ষকের কবল থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে বিস্তারিত জানায়। ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে আত্মগোপন করেন।
ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক, স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন। উত্তেজিত জনতা একপর্যায়ে অভিযুক্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ঘেরাও করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে বদলগাছী থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি, স্থানীয় ভাণ্ডারপুর চারমাথা এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও সুবিচারের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল করেন।
সামাজিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম স্বপন জানান, উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও নারীঘটিত নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং বাল্যবিবাহ করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল। তিনি অবিলম্বে অভিযুক্তের কাজীর লাইসেন্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন শিক্ষকের কাছেই যদি ছাত্রীরা নিরাপদ না থাকে, তবে সমাজ কাকে বিশ্বাস করবে?
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান সনি এবং বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা আন্দোলনকারী ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযুক্ত জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে জোর প্রচেষ্টা চলছে।
মন্তব্য