খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
দেশের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় এক বড় ধরনের আইনি পরিবর্তন দেখা গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে কারাগারে বন্দি থাকা সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান অবশেষে আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি বের হয়ে আসেন। উক্ত মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।
এর আগে গত রোববার (২ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সার্বিক শুনানি শেষে আসামি হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন। তনু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রথম প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসভবন থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ ৩ মাস ১৪ দিন কারাভোগের পর অবশেষে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন লাভ করলেন।
মামলার নথিপত্র ও পিবিআই সূত্র থেকে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পরদিন তাঁকে কুমিল্লার জুডিশিয়াল আদালতে তোলা হলে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় এবং পিবিআইয়ের বিশেষ কার্যালয়ে তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে তনুর জব্দকৃত পোশাকের ডিএনএ পরীক্ষায় একাধিক পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। সেই নমুনার সাথে মিল দেখভাল করতে কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বীর রক্তের নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন আদালত।
এছাড়া উক্ত মামলায় অপর দুই সন্দেহভাজন, তৎকালীন সার্জেন্ট (অব.) জাহিদুজ্জামান ও সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হলেও তাঁরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তনুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি করতে না পারায় পরবর্তীতে ২০২০ সালে পিবিআই-এর ওপর মামলার তদন্তভার অর্পণ করা হয়। বর্তমানে আদালতের আদেশে তদন্ত প্রক্রিয়া নতুন গতি লাভ করেছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য