খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৫ পিএম
ভারতের আসাম রাজ্যের নগাঁও জেলায় কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) এক জওয়ানের তাণ্ডবে চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নগাঁওয়ের কাটিমারিতে অবস্থিত সিআরপিএফের ৩৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে কর্মরত এক সদস্য তাঁর সহকর্মীদের ওপর হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দুজনকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজের ওপরও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সময়ে আরেকজন সহকর্মী জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও সিআরপিএফ সূত্রের পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে। নগাঁও জেলা পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (হেডকোয়ার্টার) পারমিতা সরকার নিশ্চিত করেছেন যে, অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা এবং সিআরপিএফের এএসআই/জিডি পদে কর্মরত বল্লানি প্রেমাবরম সে সময় ক্যাম্পের মূল ফটকে নিরাপত্তায় দায়িত্বরত ছিলেন। ডিউটির শুরুতে তাঁর কাছে কোনো নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। তবে হঠাৎ করেই তিনি ক্যাম্পের গার্ডরুম থেকে একটি ভারী ইনসাস (INSAS) রাইফেল হাতে তুলে নেন এবং কোয়ার্টার গার্ডের পেছনের দিকে চলে যান।
সেখানে গিয়ে তিনি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সহকর্মীদের ওপর সরাসরি নিশানা করে গুলি ছুড়তে থাকেন। তাঁর গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এইচভি/জিডি বিষ্ণু প্রসাদ বাঘেল এবং লখনউ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্র যাচাইয়ের কাজে ক্যাম্পে আসা এসআই/জিডি রামনাওয়াল সিং যাদব। দুজন জওয়ানকে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়তে দেখে গোবিন্দ শ্রীপুল নামের অপর এক সহকর্মী এগিয়ে এলে অভিযুক্ত প্রেমাবরম তাকেও লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর অভিযুক্ত এএসআই প্রেমাবরম দ্রুত ক্যাম্পের ব্যারাকে চলে যান এবং নিজের অস্ত্র দিয়ে নিজের ওপরেই গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।
গুলির বিকট শব্দে পুরো সিআরপিএফ ক্যাম্প জুড়েই চরম আতঙ্ক ও হুলুস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সহকর্মীরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে এসে মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় গোবিন্দ শ্রীপুলকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পরপরই নগাঁও জেলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার পার্থ প্রতিম দাসসহ সিআরপিএফ ও রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। সুরক্ষিত একটি সামরিক ব্যারাকে ঠিক কী কারণে একজন জওয়ান এমন মারাত্মক ও আত্মঘাতী পদক্ষেপ নিলেন, তা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। কোনো মানসিক মানসিক চাপ, ব্যক্তিগত বিবাদ নাকি অন্য কোনো পারিবারিক কারণ এর পেছনে জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।
মন্তব্য