খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২৮ পিএম
আর্থিক শক্তিমত্তার দিক থেকে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য আরও একবার দৃশ্যমান করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাবটির বার্ষিক পরিচালন আয় ১.২২১ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১.২ বিলিয়ন ইউরোর (১২০ কোটি ইউরো) বেশি আয় করার নতুন ইতিহাস গড়েছে লস ব্লাঙ্কোরা। বিশেষ বিষয় হলো, এই বিশাল অঙ্কের আয়ের হিসাবের মধ্যে কোনো খেলোয়াড় বিক্রির অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সাময়িকী ফোর্বস-এর তথ্য অনুযায়ী, আগের মৌসুমের তুলনায় রিয়ালের বার্ষিক আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.১ শতাংশ। একই সময়ে বিখ্যাত হিসাব নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েট-এর প্রকাশ করা মানি লিগ তালিকাতেও ইউরোপের সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবল ক্লাব হিসেবে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে তারা। এই তালিকায় রিয়ালের পেছনে ক্রমান্বয়ে অবস্থান করছে বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, পিএসজি এবং লিভারপুল।
আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান অভাবনীয় আর্থিক সাফল্যের পেছনে শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই মূল কারণ নয়; বরং নিজেদের স্টেডিয়ামের বহুমুখী বাণিজ্যিক ব্যবহার, বিপণন কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক স্পনসরশিপ থেকে আসা বিশাল রাজস্ব অন্যতম ভূমিকা রেখেছে। মূলত এসব খাত থেকেই এখন রিয়ালের কোষাগারে আয়ের সিংহভাগ জমা হচ্ছে।
২০১৮-১৯ মৌসুমে ঐতিহাসিক সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন ও সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার আগে ক্লাবটির বার্ষিক মোট আয় ছিল ৭৫৭ মিলিয়ন ইউরো। বর্তমানে তা এক লাফেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.২২১ বিলিয়ন ইউরোতে, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই সময়ে যোগ হওয়া অতিরিক্ত আয়ের ৯৩ শতাংশ অর্থই এসেছে ক্লাবের নিজস্ব বাণিজ্যিক উৎসসমূহ থেকে।
বার্নাব্যু স্টেডিয়াম সংস্কারের সুফল সরাসরি ক্লাবের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। আধুনিকীকরণের পর ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়াম থেকে রিয়ালের আয় ১০৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ৩৬৩ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিভিন্ন বহুজাতিক ব্র্যান্ডের সাথে চুক্তি, বাণিজ্যিক বিপণন ও স্পনসরশিপ খাত থেকে আয় বেড়ে হয়েছে ৫৩৯ মিলিয়ন ইউরো, যা আগের হিসাবের চেয়ে ৮২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী টেলিভিশন সম্প্রচারস্বত্ব ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্ট থেকে ক্লাবের আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ।
আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে স্টেডিয়াম কেন্দ্রিক আয় আরও ১১ শতাংশ এবং বিপণন খাতের আয় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লাবের নীতিনির্ধারকদের দাবি, নতুন করে সাজানো ডিজিটাল বার্নাব্যু, আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার এবং আকর্ষণীয় স্পনসরশিপ চুক্তিই তাঁদের এই ধারাবাহিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর অবকাঠামোগত পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নে এ পর্যন্ত মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৪০৮ বিলিয়ন ইউরো এবং বিশাল এই মেগা প্রজেক্টটি এখন সমাপ্তির পথে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পুরোপুরি বদলে যাওয়া স্টেডিয়ামটি এখন আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি রাজস্ব জেনারেট করছে।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেকর্ড আয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের বেতন ও চুক্তি-সংক্রান্ত অন্যান্য সার্বিক ব্যয় বেশ দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে ক্লাবটি। পুরো স্কোয়াড পরিচালনায় তাদের মোট ব্যয় হয়েছে ৬১৮ মিলিয়ন ইউরো, যা অর্জিত মোট আয়ের ৪৬ শতাংশ। ইউরোপিয়ান ফুটবলের আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী ক্লাবের জন্য নির্ধারিত ৫০ শতাংশ সীমার নিচেই রয়েছে এই খরচ।
গত মৌসুমে নতুন খেলোয়াড় দলভুক্ত করার পেছনে রিয়ালের মোট খরচ ছিল ১৬১ মিলিয়ন ইউরো। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামো ও ক্লাবের ডিজিটাল প্রযুক্তি খাত উন্নয়নে আরও ১৯২ মিলিয়ন ইউরো অতিরিক্ত বিনিয়োগ করেছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন-এর এক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের নিট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ মিলিয়ন ইউরো এবং অ্যাকাউন্টে নগদ উদ্বৃত্ত হিসেবে রয়েছে ৮৩ মিলিয়ন ইউরো। বিশাল স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে গৃহীত ঋণ বাদ দিলে বর্তমানে স্প্যানিশ এই হেভিওয়েট ক্লাবটির নিট দেনার পরিমাণ মাত্র ৯ মিলিয়ন ইউরো।
মন্তব্য