খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৭ পিএম
জাম্বিয়ায় আয়োজিত ‘২০তম এশিয়ান লিজেন্ডস লিগ’-এ অংশ নেওয়া পাকিস্তানের কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আইসিসির স্পষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন করে টুর্নামেন্টের কোনো ধরনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) কিংবা অনুমোদন ছাড়া প্রতিযোগিতায় মাঠে নামায় এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশটির ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) টুর্নামেন্ট অনুমোদন ও খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী এশিয়ান লিজেন্ডস লিগ একটি সম্পূর্ণ অননুমোদিত প্রতিযোগিতা। শুধু পিসিবি বা আইসিসি নয়, প্রতিযোগিতাটির স্বাগতিক দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা জাম্বিয়া ক্রিকেট ইউনিয়নও (জেডসিইউ) এটিকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি বা প্রশাসনিক সমর্থন প্রদান করেনি। গত সপ্তাহে জেডসিইউ এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তাদের অনুমতি বা তত্ত্বাবধান ছাড়াই এই অখ্যাত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
পিসিবির নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সরকারি ও ক্রিকেট বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়া যারা অননুমোদিত টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের ওপর দুই বছরের দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদে অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা পিসিবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কোনো বিদেশি লিগে অংশ নেওয়ার জন্য এনওসি পাবেন না। একই সাথে তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) অধীনস্ত কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কোচ, মেন্টর, ধারাভাষ্যকার বা পরামর্শকের মতো কোনো পদে যুক্ত হতে পারবেন না।
বিবৃতিতে বোর্ড আরও মনে করিয়ে দেয়, বাইরের দেশে আয়োজিত যেকোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগে নিজ নিজ দেশের ক্রিকেট বোর্ড থেকে এনওসি নেওয়া আইসিসির বাধ্যতামূলক আইনি নিয়ম। সদস্য বোর্ডগুলোর ওপর স্পষ্ট দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে যাতে তারা নিজ দেশের খেলোয়াড়দের এমন অননুমোদিত লিগে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখে ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়। পিসিবি যদি কার্যকর আইনি নির্দেশনা না দেয়, তবে খোদ বোর্ডকেও আইসিসির জবাবদিহির মুখোমুখি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদ মাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, পিসিবি এই পুরো বিষয়টিকে গুরুতর শৃঙ্খলা ও নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে। গত ৩০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে মোট ছয়টি দল অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে ‘পাকিস্তান প্যান্থার্স’ নামের দলটি সম্পূর্ণরূপে পাকিস্তানের এক সময়ের তারকা সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যেই দুটি ম্যাচে মাঠে নেমেছে।
টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলো হলো—ইন্ডিয়ান রয়্যালস, শ্রীলঙ্কান লায়ন্স, বাংলাদেশ টাইগার্স, আফগানিস্তান পাঠান্স এবং এশিয়ান স্টারস। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাবেক ফুটবলার ও ক্রিকেটাররা এই লিগে নাম লেখালেও, এখন পর্যন্ত কেবল পিসিবিই নিজেদের দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে নিয়মবহির্ভূত অংশগ্রহণকে চিহ্নিত করে শাস্তির কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে।
প্রতিযোগিতার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যানুযায়ী, বিতর্কিত পাকিস্তান প্যান্থার্সের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা হলেন:
শারজিল খান
কামরান আকমল
মোহাম্মদ হাফিজ
শোয়েব মালিক
উমর আকমল
ইমরান নাজির
সাঈদ আজমল
সোহেল তানভীর
ইয়াসির শাহ
নাভিদ-উল-হাসান
মোহাম্মদ ইরফান
জুলফিকার বাবর
রাহাত আলী
হাসান রাজা
ইয়াসির ভাট
রানা নাঈম আনোয়ার
সংবাদ মাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো-র তথ্য অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষ তারকাদের বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ এই লিগের একাধিক ম্যাচে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অতি শীঘ্রই পিসিবি তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শুনানির ডাক দিতে পারে।
মন্তব্য