খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৩ পিএম
মস্তিষ্কে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টিকারী বিরল চন্দিপুরা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভারতে অন্তত ২২ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাসের এই হঠাৎ বিস্তারে পরিস্থিতি সামাল দিতে গুজরাট ও রাজস্থানে ন্যাশনাল রেসপন্স টিম (এনআরটি) মোতায়েন করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশেষ এনআরটি দল গঠন করা হয়েছে। এই মেডিকেল টিম স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা প্রদান এবং সার্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চন্দিপুরা ভাইরাস মূলত বর্ষাকালে বালুমাছি (স্যান্ডফ্লাই), মশা এবং অন্যান্য বাহক পোকামাকড়ের কামড়ের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসের মূল শিকার হয় শিশুরা। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি দ্রুত মস্তিষ্কে প্রবেস করে তীব্র প্রদাহ বা ‘অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিন্ড্রোম’ তৈরি করে। ফলে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে আক্রান্তের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে এবং চিকিৎসা পেতে সামান্য দেরি হলে তা প্রাণঘাতী রূপ নেয়।
চলতি প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাট। রাজ্যটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানশেরিয়া জানান, সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত ১৮৪ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের শরীরে চন্দিপুরা ভাইরাসের নিশ্চিত উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী রাজ্য রাজস্থানেও গত মাসে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে দুজন শিশুর মৃত্যুর খবর রেকর্ড করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে বিশেষ নজরদারি সেল চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্বারে দ্বারে গিয়ে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের পৃথকীকরণ, ফগিং ও কীটনাশক ছিটিয়ে বাহক মাছি-মশা দমন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে তীব্র জ্বর, বমি, খিঁচুনি কিংবা যেকোনো ধরনের স্নায়বিক জটিলতার লক্ষণ দেখা দেওয়ামাত্র কোনো অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
মন্তব্য