খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৭:২৭ পিএম
ডলারের দরপতন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রভাবে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা দিয়েছে। টানা তিন কার্যদিবস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে স্বর্ণের বাজারদর গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক এক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক চালচিত্রের এই চিত্র তুলে ধরেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজার লেনদেন চলাকালে স্পট গোল্ডের দাম ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,১৭৫.৫৩ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। চলতি বছরের গত ৭ জুলাইয়ের পর স্বর্ণের এই দর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২৩৫.৩০ ডলারে লেনদেন সম্পন্ন হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতি ও সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বড় বড় বিনিয়োগকারীরা। একই সাথে তারা নজর রাখছেন দেশটির সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নথিপত্রের দিকে। কর্মসংস্থানের চিত্রে মন্দার আভাস এবং মার্কিন ডলারের ক্রমাগত দরপতন বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগে আরও উৎসাহিত করেছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হ্রাস পাওয়ার ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগে কিছুটা স্বস্তি এসেছে, যার ইতিবাচক ছায়া পড়েছে স্বর্ণের আন্তর্জাতিক লেনদেনে।
বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ওএএনডিএ (OANDA)-র জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওয়াং এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর জ্বালানি তেলের বাজারের অত্যন্ত গভীর প্রভাব রয়েছে। ফলে তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য এবং বৈশ্বিক নানা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা স্বর্ণের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
শুধু স্বর্ণের বাজারে নয়, এই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বেশ চাঞ্চল্য দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৬১.৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর বাইরে প্লাটিনামের দাম ২.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৭৭৯.২৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দামও সমান ২.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়ে ১,৩৮৯.১৫ ডলারে উঠে এসেছে। প্যালাডিয়ামের বর্তমান এই বাজারমূল্য গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে এক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে ধাতুভিত্তিক সুরক্ষাকবচের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।
মন্তব্য