ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ঘিরে ইরানের কঠোর নীতির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অন্যান্য ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশের জাহাজকে প্রণালিটি অতিক্রম করতে না দেওয়ার প্রস্তাবসংবলিত একটি খসড়া আইন পর্যালোচনার খবরের পরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এই দরপতন ও অস্থিরতার রদবদল ঘটে।
ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স-এর বরাতে জানা গেছে, দেশটির জাতীয় সংসদের একটি শক্তিশালী সংসদীয় কমিটি সম্প্রতি এই খসড়া বিলটি বিশদভাবে পর্যালোচনা করছে। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম কিংবা ইরানের প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে কোনো জাহাজ জোরপূর্বক বা বেআইনিভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে, ওই জাহাজে থাকা পণ্যের মোট মূল্যের ওপর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। একই সঙ্গে, দেশটির সুরক্ষার স্বার্থে মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকাবাহী বা নিয়ন্ত্রণাধীন জাহাজ চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই সংবাদ জানাজানি হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন বাজারের মূল সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশের বেশি সরবরাহ হয় এই সংকীর্ণ অথচ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে এই রুটে যেকোনো ধরনের অবরোধ, বিধিনিষেধ বা সামরিক জটলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাজার সমাপনীতে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ৩.০৪ মার্কিন ডলার বা ৩.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮২.৪৯ ডলারে স্থির হয়েছে। এর পাশাপাশি, মার্কিন ক্রুড অয়েল ডব্লিউটিআই-এর দর ব্যারেলপ্রতি ২.০৭ ডলার বা ২.৭৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭.২৯ ডলারে। জ্বালানি খাতের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার স্থায়িত্ব এবং প্রণালিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।



