খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৪৬ পিএম
দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নতুন এই চুক্তির আওতায় ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়েই খেলবেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ফলে ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ ক্লাবের আগ্রহের মধ্যেও আপাতত বার্নাব্যুতেই নিজের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করলেন তিনি।
ভিনিসিয়ুসের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক বছর বাকি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে দলবদলের বাজারে জোর গুঞ্জন তৈরি হয়। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের আর্সেনাল তাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, দুই পক্ষ নতুন ছয় বছরের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে এবং সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
চুক্তির ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান ভিনিসিয়ুস। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, “বার্নাব্যুতে আট বছর খুবই কম… আরও ছয় বছর, এরপর চিরদিন।” এই বার্তায় রিয়াল সমর্থকদের প্রতি তার ভালোবাসা এবং ক্লাবটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ইচ্ছারই প্রতিফলন দেখা যায়।
চুক্তি ঘোষণার পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদ এক বিবৃতিতে ভিনিসিয়ুসের অবদানের উচ্চ প্রশংসা করেছে। ক্লাবটির ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সবচেয়ে সফল অধ্যায়ে ভিনিসিয়ুস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, বড় ম্যাচে গোল করার ক্ষমতা এবং আক্রমণভাগে প্রভাব বিস্তারের কারণে তিনি এখন দলের অপরিহার্য সদস্য।
জানা গেছে, নতুন চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছিল। একপর্যায়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদ নতুন প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন ভিনিসিয়ুস। এরপর দ্রুতই সব শর্তে সমঝোতা হয় এবং নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২০১৮ সালে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। শুরুর দিকে সময় নিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিলেও পরে তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর গত প্রায় দেড় বছর ধরে আবারও নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এই সময়ের মধ্যে তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে রিয়ালকে নিজের “স্বপ্নের ক্লাব” বলে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেই প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে যোগ দিতে রিয়াল শিবিরে ফেরেন ভিনিসিয়ুস। সোমবার তিনি মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং এরপর সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করেন। নতুন মৌসুমে তার ওপর আবারও বড় দায়িত্ব থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিয়ালের হয়ে এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭৫টি ম্যাচ খেলেছেন ভিনিসিয়ুস। এই সময়ে তার গোলসংখ্যা ১২৮। পাশাপাশি অসংখ্য গোল তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৪ ম্যাচে করেছেন ১৩ গোল।
শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, দলীয় সাফল্যেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। রিয়ালের হয়ে তিনি দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, তিনটি লা লিগা এবং একটি কোপা দেল রে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার দক্ষতা রিয়ালের আক্রমণভাগকে দীর্ঘদিন ধরেই বাড়তি শক্তি জুগিয়ে আসছে।
সূত্রগুলোর দাবি, ভিনিসিয়ুস যদি নতুন চুক্তিতে সম্মতি না দিতেন, তাহলে তাকে দলে ভেড়ানোর প্রচেষ্টা আরও জোরালো করত আর্সেনাল। নতুন চুক্তির ফলে সেই সম্ভাবনার ইতি ঘটেছে। ফলে ইংলিশ ক্লাবটিকে এখন আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে অন্য বিকল্পের দিকে নজর দিতে হতে পারে।
এদিকে ভিনিসিয়ুসের চুক্তি নবায়নের দিনই রিয়াল মাদ্রিদ আরও একটি বড় দলবদলের ঘোষণা দিয়েছে। জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ থেকে আইভোরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দেকে সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১২ কোটি পাউন্ড) ট্রান্সফার ফির সম্ভাব্য চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
নতুন প্রধান কোচ জোসে মরিনিয়োর অধীনে এটি রিয়ালের ষষ্ঠ গ্রীষ্মকালীন সাইনিং। এর আগে বার্নার্দো সিলভা, ইব্রাহিমা কোনাতে, ডেনজেল ডামফ্রিস, মার্ক কুকুরেয়া এবং কার্লোস এসপেকে দলে নিয়েছে ক্লাবটি। পাশাপাশি স্পেনের আন্তর্জাতিক মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াল। এই দৌড়ে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে বার্সেলোনা। নতুন মৌসুমের আগে দলকে আরও শক্তিশালী করতে রিয়াল যে বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, সাম্প্রতিক দলবদলের কার্যক্রমে তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
মন্তব্য