খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে ১৪ বছর বয়সী এক আবাসিক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ধুলিয়া গ্রাম থেকে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
আটক হওয়া শিক্ষকের নাম তানভীর (২৪)। তিনি পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা গ্রামের একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী শিশুটি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ধুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ধর্মীয় পড়াশোনার কারণে শিশুটি এতদিন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা গ্রামের ওই মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষে অবস্থান করছিল। অভিযোগ উঠেছে, আবাসিক মাদ্রাসায় থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তানভীর বিভিন্ন সময়ে শিশুটিকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক পাশবিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি অভিযুক্ত শিক্ষক ওই শিশুটিকে মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে গিয়ে পুনরায় নির্যাতন চালান। কেবল শারীরিক নির্যাতনই নয়, ঘটনাটি যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্য শিশুটিকে গুরুতর পরিণতির ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়।
ধারাবাহিক এই নির্যাতনের কারণে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে শিশুটি। একপর্যায়ে সে মাদ্রাসা থেকে নিজ গ্রামে ফিরে আসে এবং স্বজনদের সামনে অমানুষিক নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরে। ঘটনার ভয়াবহতা জানতে পেরে শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে স্বজন ও স্থানীয় জনতা ধুলিয়া গ্রাম থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক তানভীরকে আটক করেন। উপস্থিত ক্ষুব্ধ লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিক্ষক তানভীর নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন। এরপরই গ্রামবাসী হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) অসিত কুমার রায় জানান, স্থানীয় লোকজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ পেয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে অপরাধের স্থান চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানা সীমানার ভেতরে হওয়ায় আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই অনুযায়ী ভুক্তভোগী পরিবারকে সংশ্লিষ্ট আলমডাঙ্গা থানায় মূল লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, হরিণাকুণ্ডু থানা থেকে আটক শিক্ষককে শিগগিরই আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মামলা দায়েরের পর ভুক্তভোগী শিশুটির চিকিৎসাসংক্রান্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। একই সাথে এই স্পর্শকাতর ঘটনায় জড়িত শিক্ষকের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিশুটির পরিবার ও এলাকার সাধারণ মানুষ।
মন্তব্য