খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ৬:২০ পিএম
চট্টগ্রামে এক গণসমাবেশে জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশকে ‘পিটিয়ে রক্তাক্ত’ করার প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম। বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁর বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ উপস্থাপিত হয়নি।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল মোড়ে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে এ বক্তব্য দেন জোবাইরুল আলম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে গণরায়ের বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই জুলাই আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতির উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনারা কি ৩৬ জুলাই দেখেন নাই? তখন কীভাবে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা থানাগুলোকে জ্বালিয়ে দিয়েছিল? আপনারা কি তখন দেখেন নাই, জনগণের টাকায় চলা এই পুলিশকে আমরা পিটিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিলাম?’
পরে সমাবেশের প্রায় ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি জোবাইরুল আলম নিজেও তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। এরপর বক্তব্যের ওই অংশ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ইউএনওকে প্রশ্ন করতে চাই, ওসিকে প্রশ্ন করতে চাই; আপনারা কি ৩৬ জুলাই দেখেন নাই?’ তাঁর দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি।
বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকাও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনে এখনো দলীয় প্রভাব বিদ্যমান। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো দেখি, আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, তারা দলীয় স্বজনপ্রীতি করতেছে। আমরা এখনো দেখতেছি, এমপির নির্দেশনা ছাড়া কোনো একটা ফাইল উপজেলা প্রশাসনে নড়ে না।’
প্রশাসনের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও দেন তিনি। বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা আবার যদি আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতে চান, আমরা যেমন আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে দেব না, কাউকে আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতেও দেব না, ইনশা আল্লাহ।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আবদুল গনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল হাসান। এতে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন জোবাইরুল আলম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাঁর বক্তব্যের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। তাঁর ভাষ্য, তিনি কোনোভাবেই নতুন করে সংঘাতের আহ্বান জানাননি।
জোবাইরুল আলম বলেন, ‘আমরা চাই না, জনগণের যে ক্ষোভ আছে, সেটা আরও বাড়ুক। জুলাই আন্দোলনের সময় যেমন পরিস্থিতি হয়েছিল, আমরা চাই না, আবার প্রশাসনের সঙ্গে সে রকম মুখোমুখি অবস্থা তৈরি হোক। বক্তব্যে এটাই বুঝিয়েছিলাম। আমরা চাই, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক।’
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জনসম্মুখে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেটি বক্তার নিজস্ব বিষয়। এ মুহূর্তে এ নিয়ে তাঁর আর কোনো মন্তব্য নেই।
বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন এবং অনলাইন পরিসরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপন নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, অন্যদিকে জোবাইরুল আলম দাবি করছেন, বক্তব্যের একটি অংশ বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করায় তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
মন্তব্য