খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২৪ পিএম
দুই বছর পার হলেও বগুড়া সদর থানা থেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় লুট হওয়া ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ২২টির কোনো সন্ধান মেলেনি। উদ্ধার হওয়া অবশিষ্ট ১৭টি অস্ত্রের অনেকগুলোই ব্যবহারের যোগ্যতা হারিয়েছে। সরকারের তরফ থেকে পুরষ্কারের ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও উদ্ধার অভিযান সফলতার মুখ দেখেনি, এমনকি কেউ নিজে থেকেও লুণ্ঠিত এসব অস্ত্র জমা দেয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলে সারা দেশে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই দিন বিকেলে বগুড়া শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত সদর থানায় হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। একই সঙ্গে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে সদর ভূমি অফিস, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে। সেনাসদস্যদের প্রহারায় থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা কোনোরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে সরে যাওয়ার সুযোগে তাণ্ডব শুরু করে হামলাকারীরা।
দুর্বৃত্তরা থানার অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে ৩৬টি পুলিশি অস্ত্র এবং পুলিশ লাইনসের সদস্যদের ৩টিসহ মোট ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্র হাতিয়ে নেয়। লুট হওয়া এসব অস্ত্রের তালিকায় ছিল ৫টি পিস্তল, ১২টি রাইফেল, ৫টি এসএমজি ও এলএমজি এবং ১৭টি শটগান। একই সময়ে দুর্বৃত্তরা বিপুল পরিমাণের গুলি, কার্তুজ এবং থানা প্রাঙ্গণে রাখা বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে থাকা দুই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয় পুলিশের বেশ কয়েকটি যানবাহন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৭টি অস্ত্র উদ্ধার করতে পারলেও বাকি ২২টি অস্ত্র এবং বিপুল গুলি এখনো অপরাধীদের হাতে রয়ে গেছে। এতে বগুড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার এই লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরাসরি অপরাধী চক্রের কাছে চলে গেছে, যা দিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের নাশকতা বা সশস্ত্র অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। চেলোপাড়া এলাকার এক রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে সদর থানায় ওই দিন লুটপাট চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেন অনেক প্রত্যক্ষদর্শী। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হলে বাকি অস্ত্রগুলোর সন্ধান পাওয়ার পথ সহজ হতো।
নাগরিক সমাজও এই নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে তাদের গভীর চিন্তার কথা জানিয়েছে। লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর স্থানীয় নেতৃত্ব তাগিদ দিয়েছে যে, অপরাধীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত রাখতে দ্রুততম সময়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত প্রতিটি অস্ত্র উদ্ধার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এদিকে বগুড়া সদর থানা প্রশাসন জানিয়েছে, অবশিষ্ট ২২টি অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া নতুন পুলিশ কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে অভিযানের মাধ্যমে শিগগিরই লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তবে লুটের দিনে ঠিক কত হাজার রউন্ড গুলি বা কার্তুজ খোয়া গিয়েছিল, তার নিখুঁত হিসাব এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য