খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৩২ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের চরম দুর্বলতা প্রকাশ পেল বাংলাদেশের। ডারউইনের মারারা ওভালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ও ৩৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে নাজমুল হোসেনের দল। প্রথম ইনিংসে কিছুটা লড়াইয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৬৩ রান। দলের হয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি সেঞ্চুরি করলেও অন্য কোনো ব্যাটসম্যান হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাননি। বাংলাদেশের ইনিংসের জবাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ৩৫৫ রান করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ৯২ রানের লিড পেয়ে যায় স্বাগতিক দল।
সেই ঘাটতি পুষিয়ে ম্যাচে ফিরতে বাংলাদেশের সামনে প্রয়োজন ছিল দায়িত্বশীল ব্যাটিং। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই প্রত্যাশার সামান্যও প্রতিফলন দেখা যায়নি। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশ ১৯ রানে হারিয়েছিল দুই উইকেট। হাতে ছিল আট উইকেট। ফলে শেষ দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ ছিল নাজমুলদের সামনে।
কিন্তু তৃতীয় ও শেষ দিনে মাত্র ১৭ ওভারের মধ্যেই বাকি আট উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। একের পর এক ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত দলের স্কোর গিয়ে থামে মাত্র ৫৪ রানে। ৯২ রানের প্রথম ইনিংসের ঘাটতিও পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষের লিডের অর্ধেকেরও কম রান করেছে তারা।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল নায়ক বাঁহাতি পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন। দলের ১০ উইকেটের মধ্যে একাই আটটি নিয়েছেন তিনি। বাকি দুটি উইকেট পেয়েছেন অফ স্পিনার কোরি রকিচোলি। থম্পসনের বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের প্রতিরোধ প্রায় ছিল না বললেই চলে।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার তানজিদ হাসান। আগের দিন অপরাজিত থাকা তানজিদ ৪১ বল মোকাবিলা করে ২২ রান করেন। দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৯ বলে করেন ৬ রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন কোনো রান না করেই আউট হন। ফলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং স্কোরকার্ডে একের পর এক ছোট ছোট সংখ্যা জমতে থাকে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বাংলাদেশকে এমন বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছেন মাত্র ২২ বছর বয়সী ক্যাম্পবেল থম্পসন, যাঁর এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকই হয়নি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি খেলেছেন মাত্র দুটি ম্যাচ, যেখানে তাঁর উইকেটসংখ্যা তিন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও তাঁর অভিজ্ঞতা সীমিত—দুটি ম্যাচে পেয়েছেন একটি উইকেট। এমন সীমিত অভিজ্ঞতার একজন বোলারের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটের অসহায় আত্মসমর্পণ তাই প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রস্তুতি ম্যাচের ফল অবশ্যই সিরিজের চূড়ান্ত ফল নয়। তবে টেস্ট ক্রিকেটে নামার আগে দলের ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য ও মানসিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমন ম্যাচের গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নতুন বলের গতি ও বাউন্স সামলানো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। প্রথম ইনিংসে মিরাজের সেঞ্চুরি যেমন আশার জায়গা তৈরি করেছে, তেমনি দ্বিতীয় ইনিংসের ৫৪ রানের ধস সেই আশাকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।
বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। মূল সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ও গতিময় পেস আক্রমণের মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে এমন ব্যাটিং বিপর্যয় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য বড় সতর্কবার্তা। বিশেষ করে টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার সক্ষমতা এবং চাপের মুহূর্তে পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
প্রস্তুতি ম্যাচে জয়-পরাজয়ের চেয়ে দলের দুর্বলতা চিহ্নিত করাই মূল উদ্দেশ্য। সেই দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য মারারা ওভালের ম্যাচটি কঠিন হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কসংকেত হয়ে থাকল। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ব্যাটিংয়ের এই ভঙ্গুরতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে বাংলাদেশকে।
মন্তব্য