খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আবাসিক ঘরের গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেছে আট বছর বয়সী শিশু মারুফ। আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় মারাত্মক পোড়া শরীর নিয়ে একই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবনের সঙ্গে লড়ছেন শিশুটির বাবা ও মা।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান মারুফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। চিকিৎসকেরা জানান, শিশু মারুফের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশই গভীরভাবে পুড়ে গিয়েছিল। একটি শিশুর কোমল দেহে এত বড় মাত্রার দগ্ধের ক্ষত সামলে ওঠা প্রায় অসম্ভব ছিল।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বন্দরের কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকার একটি টিনশেড ভাড়া বাসায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দগ্ধ পরিবারের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাতভর কোনো কারণে ঘরের ভেতরে লাইনের গ্যাস লিকেজ হয়ে আবদ্ধ জায়গায় বাতাস ভারী হয়ে জমে ছিল। সকালে অসাবধানতাবশত ধূমপানের উদ্দেশ্যে আগুন বা দেশলাই জ্বালাতেই ঘরে জমিয়ে থাকা গ্যাসে বিকট শব্দে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো কক্ষে এবং ঘরের ভেতরে থাকা তিন সদস্যই অগ্নিদগ্ধ হন।
আগুনের লেপন ও আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সেখান থেকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মাইদুল (২৪), তাঁর স্ত্রী বিউটি (২৪) এবং তাঁদের একমাত্র সন্তান মারুফকে উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের দেয়া তথ্যমতে, আগুনে শুধু শিশুটিই নয়, তার বাবা মাইদুলের শরীরের ৮৫ শতাংশ এবং মা বিউটির ৮০ শতাংশ অংশ পুড়ে গেছে। তাঁদের দুজনেরই শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমান শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাঁদের বাঁচিয়ে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে গ্যাসের পাইপলাইনের ফিটিংসের অবহেলা এবং লিকেজ পরীক্ষার অভাব প্রায়ই এ ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকার বাসিন্দারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত। তাঁদের দাবি, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ যেন প্রতিটি এলাকায় লিকেজ থাকা পুরোনো পাইপলাইন দ্রুত পরীক্ষা ও মেরামতের ব্যবস্থা নেয়, যাতে এমন অকাল মৃত্যু আর না ঘটে।
মন্তব্য