খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
রাজধানীর গুলশানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ছয়জন নেতা-কর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশান-১ নম্বরের পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মলের পঞ্চম তলার ফুড কোর্টে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে একই সাথে এই ছয় নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—যশোর এম এম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. নান্নু মিয়া (৩৮), যশোরের চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসারা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), চৌগাছার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সদস্য আমিনুর রহমান (৪২), চৌগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন (৩৩) এবং মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সজল আহমেদ (২৯)।
আজ বিকেলে আসামিদের আদালতে হাজির করেন গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে তিনি আসামিদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গুলশান থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় পুলিশ উল্লেখ করে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরাসহ নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী বহিরাগতদের নিয়ে পুলিশ প্লাজার ফুড কোর্টে গোপন বৈঠকে বসেছিলেন। নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং গুলশান ও আশপাশের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল বলে এজাহারে দাবি করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা মিলছে। তারা রাজপথ থেকে আত্মগোপনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুলশান এলাকায় সংঘটিত হয়ে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির নীলক নকশা আঁকছিলেন। তাদের পেছনে আর কারা জড়িত এবং এর অর্থায়ন কোথা থেকে আসছে, তা উদঘাটনের জন্য রিমান্ড এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
মন্তব্য