খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ এএম
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মাগুরুলি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত শেষ রাতে (রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটা) উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মাগুরুলি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণ কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়ন প্রদত্ত তথ্য মতে, শনিবার গভীর রাতে ৪-৫ জনের একটি বাংলাদেশি চোরাকারবারি দল অবৈধভাবে মাগুরুলি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডের আনুমানিক ৫০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় ভারতের ১৯৯ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের মাগুরুলি ক্যাম্পের টহল দল তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়ার মৃত্যু হয়। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য সহযোগীরা সীমান্ত টহলদলের চোখ ফাঁকি দিয়ে দ্রুত বাংলাদেশ অভিমুখে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (কমান্ডার) সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত তারা মিয়া সীমান্ত সীমান্তে বিভিন্ন অবৈধ চোরাচালান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় আইনি নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, কুলাউড়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বেই সীমান্ত অপরাধসংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন ছিল। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যরাও তাঁর এই চোরাচালান সংশ্লিষ্টতার বিষযে অবগত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর নিহত তরুণ তারা মিয়ার মরদেহ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দাপ্তরিক ও আইনি যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং যাবতীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে স্বজনদের নিকট ফেরত পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিচারবহির্ভূতভাবে গুলিবর্ষণ ও বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্তবাসী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ হয়ে আসছে। ইতিপূর্বে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ বৈঠকে মারণাস্ত্র ব্যবহার না করা (Non-lethal policy) এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা হলেও বাস্তবে তার কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ১২ জুন একই উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মুজিব আলী (২০) নামে আরেক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হন। সেই ঘটনাতেও বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতিমালা অনুসারে সীমান্ত অপরাধ দমনে গুলি না চালিয়ে আটক করে আইনের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মন্তব্য