কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) এলাকার সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং অবৈধ যান চলাচল বন্ধের লক্ষ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মিশুকের মালিকানা এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কুসিক প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে এবারই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটালি বা অনলাইনে আবেদন গ্রহণের সুবিধা চালু করা হয়েছে। আগ্রহী যানবাহন মালিক ও চালকগণ নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবেন।
লাইসেন্স সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী
| বিষয় / বিবরণ |
বিস্তারিত তথ্য ও শর্তাবলী |
| আবেদন শুরুর তারিখ |
অনলাইন পোর্টাল চালুর দিন থেকে |
| আবেদনের শেষ তারিখ |
৩১ আগস্ট |
| আবেদন ফি |
প্রতি আবেদনের জন্য ২০০ টাকা (অনলাইনে পরিশোধযোগ্য) |
| আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স |
১৮ বছর বা তার বেশি |
| আবেদনের সীমা |
প্রতি ব্যক্তি বা পরিবার হতে সর্বোচ্চ ১টি (মালিকানা বা ড্রাইভিং) |
| অনলাইনে জমা দেওয়ার ফাইল |
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
২. সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি
৩. নাগরিক সনদপত্র
৪. যান ক্রয়ের বৈধ রশিদ
|
| চালকদের যোগ্যতা |
প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং ড্রাইভিং পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক উত্তীর্ণ হওয়া |
| লাইসেন্সের মেয়াদ |
১ বছর (প্রতি বছর নবায়ন যোগ্য) |
| অনিয়মের শাস্তি |
অবৈধ আর্থিক লেনদেনে আবেদন বাতিল ও আইনানুগ ব্যবস্থা |
| আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি |
শতভাগ অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে |
আবেদন প্রক্রিয়ার শর্ত ও প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে অনলাইনের বাইরে কোনো আবেদন সরাসরি গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া একটি পরিবার থেকে কেবল একটি যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার নিয়ম করায় ভুয়া ও একাধিক আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের নথি পরীক্ষা করবেন। পরবর্তীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকদের ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চালকদেরই চূড়ান্তভাবে লাইসেন্স দেওয়া হবে। প্রদত্ত এই লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে এক বছর, যা প্রতিবছর সরকারি বিধি মেনে নবায়ন করতে হবে।
শৃঙ্খলা ফেরা ও নাগরিক ভোগান্তি হ্রাসের প্রত্যাশা
কুমিল্লা নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মিশুকের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় তীব্র যানজট ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন নগরবাসী। সিটি করপোরেশনের এই ডিজিটাইজড নিবন্ধন ও লাইসেন্স ব্যবস্থার ফলে অবৈধ যানবাহন চিহ্নিত করা সহজ হবে। নগর পরিচালকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে শৃঙ্খলার পাশাপাশি নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
মন্তব্য