খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৫:২১ পিএম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চাপা পড়ে চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বেজুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন অটোরিকশাচালক এবং অপরজন একটি ট্রাকের সহকারী।
নিহত দুজন হলেন মাধবপুরের পশ্চিম মাধবপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল খায়ের (৪৫) এবং রতনপুর গ্রামের রিপন মিয়া (২৭)। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা আড়াইটার দিকে বেজুড়া এলাকায় ঢাকাগামী একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সিলেটগামী একটি তেলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বালুবাহী ট্রাকটির নম্বর সিলেট ঢ-৪১-০০৭৪ এবং তেলবাহী ট্রাকটির নম্বর ময়মনসিংহ চ-১১-০৮০০।
দুই ট্রাকের সংঘর্ষের সময় পাশ দিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাচ্ছিল। সংঘর্ষের ধাক্কায় বালুবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি ট্রাকের নিচে আটকে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালক আবুল খায়ের এবং বালুবাহী ট্রাকের সহকারী রিপন মিয়া মারা যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাধবপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মন্তোষ মল্লিকের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলোর অবস্থান এবং অটোরিকশাটি ট্রাকের নিচে আটকে থাকায় উদ্ধারকাজে সতর্কতার প্রয়োজন হয়। পরে উদ্ধারকর্মীরা নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয়। তবে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
পরে দুর্ঘটনায় জড়িত তিনটি যানবাহন শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ এবং সংঘর্ষের সময় যানবাহনগুলোর অবস্থান ও গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখছে।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, নিহত দুজনের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম চললেও বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও জাতীয় সড়কপথগুলোর একটি। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনে ভারী ট্রাকের চলাচল এ মহাসড়কে উল্লেখযোগ্য। ফলে ভারী যানবাহনের সঙ্গে ছোট যানবাহনের চলাচলে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মাধবপুরের বেজুড়ার এই ঘটনায় একই সঙ্গে দুটি ভারী ট্রাক ও একটি ছোট যাত্রীবাহী যান দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য এবং আরেক পরিবারের তরুণ সদস্যকে হারানোর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি মহাসড়কে ভারী যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং চালকদের বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত মহাসড়কে বড় যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যান চলাচলের সময় চালকদের সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য