খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করার আনন্দ বেশি দিন স্থায়ী হলো না মোহাম্মদ সালাহর। তুরস্কের দল ত্রাবজোনস্পোরে খেলা শুরু করতে না করতেই পুরোনো আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন এই তারকা মিসরীয় ফরোয়ার্ড। দীর্ঘদিনের বকেয়া ফি পরিশোধ না করার অভিযোগ এনে দায়ের করা এক মামলায় তাঁকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে মিসরের নিউ কায়রো কোর্ট অব ফার্স্ট ইনস্ট্যান্স।
আদালতের নির্দেশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সালাহকে কায়রোর সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। মিসরীয় আইনজীবী আমর ফারাগ আল্লাহ মোর্সি আবদেল তাওয়াব এই মামলাটি করেন। উক্ত আইনজীবীর দাবি, বিগত বছরগুলোতে তিনি সালাহর পক্ষে একাধিক আইনি, প্রশাসনিক ও পরামর্শমূলক কাজ পরিচালনা করেছিলেন। সালাহর হয়ে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সামলানোর দায়িত্বও ছিল তাঁর কাঁধে। কিন্তু অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা প্রদান করার পরও তাঁর আইনসংক্রান্ত প্রাপ্য বকেয়া ফি পরিশোধ করা হয়নি।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম এই বিরোধটি প্রকাশ্যে আসে, যখন বকেয়া টাকার দাবি জানিয়ে আদালতে অভিযোগ ঠুকে দেন ওই আইনজীবী। আদালতের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১২ সালে সালাহ তাঁকে একটি সাধারণ অফিশিয়াল ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ বা ওকালতনামা দেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০২৫ সালের আগস্টে এসে সেই দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনকালে নিজের কাজের ফি না পাওয়ায় আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন এই আইনজীবী।
আইনজীবীর এসব দাবি ও বকেয়া থাকার বিবরণ বেআইনি ও অসত্য বলে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড সালাহ। সালাহর এই অস্বীকৃতির পর সত্যতা নিশ্চিত করতেই আদালত এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। সালাহকে আদালতে এসে প্রথাগত ‘শপথ’ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, তিনি যেসব দাবি লিখিতভাবে দিয়েছেন, সেগুলো সত্যি কি না তা শপথের মাধ্যমে জজকোর্টের সামনে নিশ্চিত করতে হবে।
কিন্তু সালাহ যদি ধার্য তারিখে আদালতে সশরীরে উপস্থিত না হন কিংবা উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পেরে শপথ নিতে অস্বীকার করেন, তবে তাঁকে আইনে ‘শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে বিচারক ধরে নেবেন যে তিনি আইনজীবীর দাবি মেনে নিয়েছেন এবং রায় তাঁর বিরুদ্ধেই যাবে। চূড়ান্ত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আপাতত মামলার রায় স্থগিত রেখেছেন বিচারক।
নতুন ক্লাব ও লিগ সূচি মিলিয়ে চরম এক জটিলতার মুখে পড়েছেন এই ফরোয়ার্ড। অতি সম্প্রতি ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুল ছেড়ে তুর্কি ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। আগামী ১৫ আগস্ট কাশিমপাশার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাঁর তুর্কি ফুটবল লিগে অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর গেনচলেরবিরলিগির মুখোমুখি হওয়ার সূচি রয়েছে ত্রাবজোনস্পোরের।
বিপদের বিষয় হলো, ঠিক একই দিনে সালাহকে মিসরের আদালতে সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। একদিকে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, অন্যদিকে জন্মভূমির আদালতের হাজিরা—ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের শুরুতেই এমন দ্বৈত সংকটে পড়ে বেশ বিপাকেই আছেন মিসরের এই পোস্টার বয়।
মন্তব্য